ধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যাচেষ্টা, মামলা তুলে নিতে হুমকি

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে মুখে বিষ ঢেলে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি মো. পলাশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মহম্মদপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তার পলাশ মহম্মদপুর উপজেলার কেরিনগর উত্তরপাড়া এলাকার আবজাল শেখের ছেলে।
অভিযোগ উঠেছে, মামলা দায়েরের পর থেকেই ভুক্তভোগী নারীকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন আসামি পলাশের স্বজনেরা।
ভুক্তভোগী নারী জানান, দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা ওই নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে পরিচয় হয় বাবুখালী ইউনিয়নের ডুমুরশিয়া গ্রামে অবস্থিত 'মধুমতি এগ্রো ফার্ম'-এর ব্যবস্থাপক পলাশের। গত ১১ আগস্ট ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে পলাশ তাকে মধুমতি এগ্রো ফার্মের একটি ড্রাগন ফল বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে জোরপূর্বক তার মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালায় অভিযুক্ত।
বিষক্রিয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর শর্তে পলাশ তাকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা পলাশকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
হুমকির বিষয়ে জানতে পলাশের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পলাশের মা বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।
এদিকে মধুমতি এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মহিউস সগির জানান, পলাশ আমার খামারের একজন কর্মচারী ছিল। ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পেরে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহমেদ জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত পলাশ ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে নিয়ে এলে স্থানীদের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



