logo

মেয়েদের জমি দেওয়ায় ভাই-ভাতিজা-ভাগনের ভয়ে এখনও বাড়িছাড়া ছাত্তার

মেয়েদের জমি দেওয়ায় ভাই-ভাতিজা-ভাগনের ভয়ে এখনও বাড়িছাড়া ছাত্তার
তালাবন্দি ঘরের সামনে আব্দুস ছাত্তার ও তার স্ত্রী। পুরোনো ছবি।

শরীয়তপুরের সখিপুরে ছয় মেয়ের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুস ছাত্তার খানের বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ভাই, ভাতিজা ও ভাগনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে রান্নার চুলো ভেঙে ফেলা, বাড়ির গাছ কেটে নেওয়া এবং ঘরের সামনে গাছের গুঁড়ি ফেলে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আব্দুস ছাত্তার ও তার স্ত্রী। নিজের ঘরে নিরাপদ বোধ না করায় বর্তমানে তারা মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সখিপুর উপজেলার ডিএমখালী ইউনিয়নের ডিএমখালী বাজারসংলগ্ন মাঝিকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন ঘরে প্রবেশ করতে না পেরে শারীরিকভাবে অসুস্থ আব্দুস ছাত্তার প্রায় ছয় ঘণ্টা বসতঘরের সামনে মাটিতে বিছানা পেতে অবস্থান করেন। পরে তার আরেক ভাই অলিউর রহমান খান চাবি এনে তালা খুলে দেন। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে শনিবার (৭ নভেম্বর) সখিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

পরিবারের দাবি, তালা খোলার পরও তারা সেখানে বেশিক্ষণ অবস্থান করতে পারেননি। বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর কারণে নিরাপত্তাহীনতায় পরদিন শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে আব্দুস ছাত্তার ও তার স্ত্রীকে গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুরে মেয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, মাঝিকান্দি এলাকার বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার খানের কোনো ছেলে সন্তান নেই। তার ছয় মেয়ে। সম্প্রতি নিজের মালিকানাধীন জমি ছয় মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন তিনি। এর কিছুদিন পর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য এক মেয়ের বাড়িতে যান। এ সময় মেয়েদের নামে জমি লিখে দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন তার ভাই মোস্তফা খান, ভাতিজা ইমরান খান ও ভাগনে এনামুল শিকদার। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার বাড়িতে ফিরে নিজের ঘরে অন্য তালা ঝুলতে দেখেন আব্দুস ছাত্তার। স্ট্রোকের কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ ও চলাচলে অক্ষম হওয়ায় ঘরে ঢুকতে না পেরে প্রায় ছয় ঘণ্টা ঘরের বাইরে অবস্থান করেন তারা। পরে তার ভাই অলিউর রহমান খান চাবি এনে তালা খুলে দিলে তিনি ঘরে প্রবেশ করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ভাই মোস্তফা খান, ভাতিজা ইমরান খান ও ভাগনে এনামুল শিকদার ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুস ছাত্তারের বসতঘরে তালা দেন। পাশাপাশি রান্নার চুলা ভেঙে ফেলেন এবং বাড়ির গাছপালা কেটে নেন। কাটা গাছের গুঁড়ি ঘরের সামনে ফেলে চলাচলের পথও বন্ধ করা হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুস ছাত্তার খানের মেয়ে নিলুফা বেগম বলেন, আমার বাবা ও মা অসুস্থ থাকায় প্রায় এক মাস আগে তাদের ঘরে তালা দিয়ে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। এ সময় আমার চাচা মোস্তফা খান জানতে পারেন, বাবা আমাদের জমি লিখে দিয়েছেন। এরপর তিনি ও তার ছেলেরা মিলে আমাদের বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে ঘরে তালা দিয়েছেন এবং গাছপালা কেটে ফেলেছেন। অসুস্থ বাবাকে নিয়ে আমরা ঘরে ঢুকতে পারিনি। পরে আমার আরেক চাচা প্রায় ছয় ঘণ্টা পর তালা খুলে দিলে ঘরে ঢুকি। কিন্তু এরপরও বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাই বাবা-মায়ের নিরাপত্তার স্বার্থে পরদিন আবার তাদের আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। আমরা এ ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুস ছাত্তার খানের ভাই মোস্তফা খান ও তার পরিবার।

মোস্তফা খানের ছেলে ইমরান খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুর ছাত্তার বাড়িতে ছিলেন না। ঘরে চুরি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই নিরাপত্তার জন্য ঘরে অন্য তালা দেওয়া হয়েছে। জমি লিখে দেওয়ার কারণে তালা দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তারা আসার পরপরই তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।

গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়ে ইমরান খান বলেন, গাছগুলো চাচা অন্য একজনের কাছে বিক্রি করেছিলেন। আমি দুই হাজার টাকা বেশি দিয়ে গাছগুলো কিনেছি। এরপরও আমি গাছ কাটিনি। চাচা বলেছিলেন, শীতের দিন আসছে, ডালগুলো কেটে দিলে রোদের আলো পড়বে। তাই ডাল কেটেছি।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রাবেয়া খাতুন

সম্পাদনা

রাবেয়া খাতুন

সাব এডিটর | এশিয়া পোস্ট