নিখোঁজ শিশুর মরদেহ জলাশয়ে, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় নিখোঁজের দুদিন পর এক শিশুর মরদেহ জলাশয় থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফজুমিয়াজির চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম (৮) পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া গ্রামের ইজিবাইকচালক মো. তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে। সে স্থানীয় মাইজপাড়া নূরানি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৪ জুন) দুপুরের পর থেকে ওয়াহিদুল নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। তাকে খুঁজতে কয়েকটি গ্রামে মাইকিংও করা হয়। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন ফজুমিয়াজির চর এলাকার একটি পরিত্যক্ত জলাশয়ে শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করলে স্বজনরা ওয়াহিদুলের বলে শনাক্ত করেন।
স্থানীয়রা জানান, জলাশয়ে মরদেহটি কয়েক দিন ধরে পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছিল। সেই দুর্গন্ধের সূত্র ধরেই এলাকাবাসীর নজরে আসে।
নিহতের বাবা তৌহিদুল ইসলাম লিটন জানান, রোববার সকালে তার ছেলে মাদ্রাসায় যায়। দুপুরে বাড়ি ফিরে কিছুক্ষণ পর খেলতে বের হয়ে সে আর ফেরেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেওয়া হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, একটি শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আমরা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শিশুটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



