মাদক কারবারির সঙ্গে সখ্যতা, তিন পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

ঢাকার সাভারের শীর্ষ মাদক কারবারি শামীমের সঙ্গে গভীর যোগাযোগের অভিযোগে ঢাকা জেলার তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক ক্লোজড (প্রত্যাহার) করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে সাভার মডেল থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
ক্লোজড হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আসিফুর এবং এএসআই মেরাজ।
এসপি শামীমা পারভীন বলেন, অপরাধ করলে কোনো ছাড় নেই। মাদক কারবারি শামীমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় এই তিন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক ক্লোজড করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবে না।
থানা পরিদর্শন শেষে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পুলিশের নেওয়া বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন এসপি শামীমা পারভীন। তিনি জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে মহাসড়কসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া আবাসিক এলাকা ও বাসাবাড়িতে যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে।
তিন দিন আগে সাভারের রাজাশন এলাকায় শীর্ষ মাদক কারবারি শামীমের আস্তানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যান দেশের দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের (দেশ টিভি ও এসএ টিভি) দুই সাংবাদিক। সেখানে মাদক কারবারিরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
হামলার ঘটনায় মাদক কারবারি শামীমকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার থানায় একটি মামলা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মূল হোতা শামীমকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই পরিস্থিতির মধ্যে মাদক কারবারির সঙ্গে পুলিশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের তথ্য ফাঁস হওয়ায় জেলা পুলিশ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল।
