রাজবাড়ীতে ৪৮১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৭৯টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক

রাজবাড়ী জেলার ৪৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৭৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে জেলার অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে একদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা ও চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পাঠদান।
রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৪৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩৮৫টি পদোন্নতিযোগ্য এবং ৯৬টি পদ সরাসরি নিয়োগযোগ্য। বর্তমানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন মাত্র ২০২ জন; যার বিপরীতে শূন্য পদের সংখ্যা ২৭৯টি। এই শূন্য পদের মধ্যে পদোন্নতিযোগ্য ৩২৭টি এবং সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৪৮টি। এর মধ্যে ৯৬ জন শিক্ষক 'চলতি দায়িত্বে' প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এবং আইনি জটিলতার কারণে ২৮টি পদ সংরক্ষিত রয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্যেও প্রধান শিক্ষক সংকটের চিত্র স্পষ্ট। রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ১৩৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৫৮ জন এবং শূন্য রয়েছে ৭৬টি পদ। পাংশায় ১২১টি পদের মধ্যে কর্মরত ৪৭ জন, শূন্য ৭৪টি। বালিয়াকান্দিতে ৯৯টি পদের মধ্যে কর্মরত ৪২ জন, শূন্য ৫৭টি। কালুখালীতে ৭৬টি পদের মধ্যে কর্মরত ৩৮ জন, শূন্য ৩৮টি। আর গোয়ালন্দে ৫১টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৭ জন, শূন্য রয়েছে ৩৪টি পদ।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, বহু বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে দাপ্তরিক ও শিক্ষাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সদর উপজেলার ৭৯ নম্বর জৌকুড়া ধাওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠিত হলেও দেড় দশকেও সেখানে স্থায়ী কোনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্তদের প্রশাসনিক কাজ, দাপ্তরিক নথিপত্র তৈরি, বিভিন্ন মিটিং ও অফিশিয়াল দায়িত্ব পালনেই সিংহভাগ সময় ব্যয় করতে হয়। ফলে তাদের পক্ষে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সহকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় তার নির্ধারিত ক্লাসগুলোর দায়িত্বও সহকারী শিক্ষকদের ওপর এসে পড়ে। এতে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মতে, বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়ন করা জরুরি।
রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বলেন, জেলার ২৭৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সেগুলো ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চালানো হচ্ছে। শূন্যপদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। আশা করছি, মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



