logo

উত্তপ্ত বরিশালের আদালতপাড়া, ভোগান্তিতে বিচারপ্রার্থীরা

উত্তপ্ত বরিশালের আদালতপাড়া, ভোগান্তিতে বিচারপ্রার্থীরা

বরিশালে টানা তৃতীয় দিনের মতো আদালত বর্জন করেছেন আইনজীবীরা। একটি মামলার আসামিকে জামিন দেওয়াকে কেন্দ্র করে আদালত বর্জন অব্যাহত রেখেছেন তারা। আইনজীবীদের দাবি, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাতির মুক্তি ও আইনজীবীদের নামে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

আদালত বর্জন করে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে আদালত চত্বরে উপস্থিত হয়ে আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন আইনজীবীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা। 

বিচারপ্রার্থী অন্তত পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলেছে এশিয়া পোস্ট। তাদের মধ্যে একজন মেহেন্দীগঞ্জ থেকে আসা শাহ আলম। তিনি বলেন, নদীপথে শহরে আসতে হয়। আসা-যাওয়ায় কষ্ট পোহাতে হয়। এমন অবস্থায় আদালতে আইনজীবীরা আসছেন না। 

প্রাইমারী স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক ৮০ বছরের আব্দুল আজিজ হাওলাদার। ভাইয়ের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও পুত্রবধূ নুসরাত জাহানকে নিয়ে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া থেকে আদালতে এসেছেন বিচারপ্রার্থী হিসেবে।

তিনি বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে সকালে আদালতে আসলেও আইনজীবী আদালতে আসেননি। তারা নাকি সব আদালত বর্জন করেছে। অপেক্ষা করেও বিচার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছি। 

আব্দুল আজিজ হাওলাদারের পুত্রবধূ নুসরাত জাহান বলেন, এতদূর থেকে কষ্ট করে এসে যদি বিচার না পাই, এটা আসলেই দুঃখজনক। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক।

গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে জামিন দেওয়ায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। পরদিন মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বর্জন করে বিচারকদের উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দেন আইনজীবীরা। দুপুরে এজলাসে ঢুকে হট্টগোল, ভাঙচুর এবং উপস্থিত আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের আদালত থেকে বের করে দেন। বিচারককে জোর করে এজলাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করা হয়।

আদালতে হট্টগোলের ঘটনায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাদিকুর রাহমান লিংকনসহ ১২ জনের নামে মামলা করেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার। মামলায় আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।

একইদিন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন, সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলামসহ সমিতির ৯ আইনজীবীর প্রতি আদালত অবমাননার রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। রুলে কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না এবং আদালত অবমাননার জন্য কেন শাস্তি দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে তাদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, উচ্চ আদালত যে আদেশ দেন, আইনজীবীরা অবশ্যই তা মেনে চলেন। এখানে কথা বলার কোনো স্কোপ নেই। তবে উচ্চ আদালতকে ভুল বোঝানো হয়েছে। হাইকোর্টের রুলের সাঙ্গ আদালত বর্জন সাংঘর্ষিক না। 

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, আমরা উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের বাইরে না। তবে আইনজীবী সমিতি থেকে আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটা বরিশালের ইতিহাসে প্রথম। তাই আইনজীবী সমিতি থেকে আদালত বর্জন করা হয়েছে।