logo
Advertisement

সপরিবারে কেন আত্মগোপনে ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস

এশিয়া পোস্ট নিউজ,চাঁদপুর
সপরিবারে কেন আত্মগোপনে ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস
চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টুদাস পরিবারের সদস্যরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধারের পর হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পিন্টু দাস নিখোঁজ ছিলেন না; বরং পরিবারের সবাইকে নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।

Advertisement

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, পিন্টু দাস ঋণগ্রস্ত ছিলেন এবং দেনার দায়ের বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে মূলত কী উদ্দেশ্যে বা কোন পরিস্থিতির কারণে তিনি সপরিবারে এভাবে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আত্মগোপনের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা জানার জন্য তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

পিন্টু দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে একটি বিশেষ দল চাঁদপুরে আসছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

উদ্ধার অভিযানের বর্ণনায় লুৎফর রহমান জানান, সিসিটিভি ক্যামেরায় ট্রাকে মালামাল তোলার ফুটেজের সূত্র ধরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে তার পরিবারসহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। উদ্ধারকালে পিন্টু দাসের সাথে তার স্ত্রী রিমি দাস ও দুই ছেলেও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, পিন্টু দাস নিখোঁজের বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এছাড়া বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় জনমনে নানা আতঙ্ক ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়—পিন্টু দাস কোথায় গেলেন কিংবা তার কী হয়েছে? পরে পুলিশি অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথমে তার বাসায় প্রবেশ করা হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় ঘরে কোনো আসবাব বা মালামাল নেই। পরবর্তীতে একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক ট্রাকে করে তার ঘরের মালামাল তুলছেন। সেই সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরেই আমাদের অনুসন্ধান ও অভিযান জোরদার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, অনুসন্ধানের শুরুতে কুমিল্লায় পিন্টু দাসের শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালানো হয়; তবে তিনি সেখানে যাননি। এরপর পিন্টু দাসের এক ভাই রাঙামাটিতে চাকরি করতেন, সেখানেও অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেখানেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পাশাপাশি তার বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতদের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব স্থানে যোগাযোগ করেও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে মালামাল পরিবহন করা সেই ট্রাকের চালককে শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ট্রাকচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিজের গ্রামের বাড়ি থেকে জিডিমূলে পিন্টু দাস ও তার পরিবারকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান লুৎফর রহমান।

এর আগে গত ২২ আগস্ট পিন্টু দাস সপরিবারে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে বিষয়টি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তার বাসার মালিকের ছোট ছেলে রাসেল খান।

বিষয় :