logo

৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের ট্যাংকলরি শ্রমিকদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার

৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের ট্যাংকলরি শ্রমিকদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার

নীলফামারীতে লরি থেকে তেল চুরির দায়ে তিন শ্রমিককে কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছে বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন। এর ফলে বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ আবারও শুরু হয়েছে। 

রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান জানান, আমাদের দাবি মেনে নেওয়ায় আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত আমাদের তিন শ্রমিক জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে। এ সংক্রান্ত সভা পার্বতীপুর ডিপোতে কিছুক্ষণ আগে সম্পন্ন হয়েছে। পার্বতীপুরের স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত থাকা পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদ হুসাইন রাজু উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে জেলহাজতে থাকা তিন শ্রমিককে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে। অন্যান্য দাবিগুলো বিবেচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। 

গতকাল শনিবার রাতে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে নীলফামারীর উদ্দেশে একটি ট্যাংকলরি রওনা দেয়। পাম্পে তেল সরবরাহ শেষে ফেরার পথে নীলফামারী পুলিশ লাইন সংলগ্ন বাইপাস মোড়ে লরিটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে লরীর চালক ও তার সহকারী সেটি মেরামতের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্যাংকলরিটি দেখে সন্দেহ হয় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নিয়াজ ভুঁইয়ার। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটিতে তল্লাশি চালান। তল্লাশিকালে একটি জেরিকেন থেকে ১৩ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় চালক ও তার সহকারী এবং লরিতে থাকা শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতির ম্যানেজারসহ তিন জনকে আটক করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জেলার সদর উপজেলার দুহুলিপাড়া এলাকার বাবুল আক্তারের ছেলে রিফাত (১৮), দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে একরামুল ইসলাম (৩০) এবং একই উপজেলার মন্মথপুর কৈবর্তপাড়া এলাকার শিসেন চন্দ্র দাসের ছেলে কৃষ্ণ চন্দ্র দাস (৩৫)। এই ঘটনার প্রতিবাদেই শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেন।