রামেক হাসপাতালে তিন মাসে হাম উপসর্গ নিয়ে ৩৮ শিশুর মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ২৫ জন ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে মোট শিশু ভর্তি রয়েছে ১৪৯ জন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ১২টায় এক ব্রিফিং এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৮ শিশুর মৃত্যু হলো। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৭৭ জন রোগী।
হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস জানান, হাসপাতালে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪৯ শিশু চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৫ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন নতুন ৩ জন।
ডা. শংকর কে বিশ্বাস আরও জানান, হাম যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, এ জন্য আমরা হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড ও আইসোলেশন কর্নার চালু করেছি এবং শিশু আইসিইউ ১৮ শয্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইসিইউর ওপর চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। সাময়িকভাবে রাজশাহীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে ১০টি বেড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রামেক হাসপাতালের আইসিইউ থেকে এক শিশু রোগীকে (নন-মিজেলস) সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও রোগী স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি জানান, মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে মোট ৩৭৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি হওয়া সব রোগীকে প্রাথমিকভাবে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এটি নিশ্চিতভাবে হাম কি না তা পরীক্ষা করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং বর্তমানে রাজশাহীতে এই পরীক্ষার সুবিধা নেই। তবে গত তিন মাসে রামেক হাসপাতালে হামে ৩৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। এ ছাড়া নওগাঁ, নাটোর ও পাবনা জেলাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সকল রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।