হারুন-বুলবুলের বিপরীতে ‘ক্লিন ইমেজের’ নতুন দুই মুখ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ প্রার্থীদের বিপরীতে ভোটের মাঠে নেমেছেন দুই ‘পরিচ্ছন্ন’ ভাবমূর্তির প্রার্থী। জেলার এ আসনে এবারই প্রথম ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো.শফিকুল ইসলাম।
জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও এই দুই প্রার্থীর জীবনযাত্রার ধরন ও হলফনামার তথ্য সাধারণ ভোটারদের মাঝে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের মতো পোড়খাওয়া রাজনীতিকদের বিপরীতে দুই নতুনের অংশগ্রহণ নির্বাচনী সমীকরণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অভিজ্ঞ নেতাদের সম্পদের পাহাড়ের বিপরীতে এ দুই নতুন প্রার্থীর জীবনযাপন খুবই সাধারণ। পেশায় শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলামের বার্ষিক আয় মাত্র ২ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭২ টাকা। আর বেসরকারি চাকরিতে নিয়োজিত মো. শফিকুল ইসলামের বাৎসরিক আয় মাত্র ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
তাদের কারোরই বড় কোনো ব্যবসা বা স্থাবর সম্পত্তি নেই। শফিকুল ইসলামের হাতে নগদ ২ লাখ টাকা এবং তার ঘরে মাত্র ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র থাকলেও মনিরুল ইসলামের যাতায়াতের একমাত্র সম্বল ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি সাধারণ মোটরসাইকেল। বিশেষ করে তারা দুজনেই সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত এবং তাদের নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।
অন্যদিকে বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রিধারী ৬৪ বছর বয়সী বিএনপি নেতা মো. হারুনুর রশীদের সম্পদ অনেক। কৃষি ও ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ১৭ লাখ টাকার বেশি হলেও তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকায়। হলফনামা অনুযায়ী, তিনি ১৫ দশমিক ৯১ একর কৃষিজমির মালিক এবং তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কয়েকটি মামলা রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল উচ্চশিক্ষায় এমএসএস এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার হলফনামা অনুযায়ী বর্তমানে ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থসহ প্রায় ৮১ লাখ ৭৭ হাজার ১৭০ টাকার সম্পদ রয়েছে। নূরুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৫টি মামলা সচল থাকলেও আগে ৩৮টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে যেমন সম্পদশালী ও প্রভাবশালী নেতা তেমনি লড়াই করছেন কোনো মামলা বা ঋণ ছাড়াই সাধারণ শিক্ষক ও চাকরিজীবী দুই নতুন প্রার্থী। আভিজাত্য বনাম সাধারণের এ লড়াইয়ে সদর আসনের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জয় ঘোষণা করবেন নাকি ‘ক্লিন ইমেজের’ নতুন মুখের চমক দেখা যাবে, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।