logo

যাত্রীরা চান স্বস্তি, চালকদের দাবি চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ

যাত্রীরা চান স্বস্তি, চালকদের দাবি চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ

ঈদযাত্রায় বাড়তি চাপ সামলাতে হয় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার বিরাট একটি অংশ এই নৌরুটে যাযতায়াত করেন। সড়ক পথে যানজটের ঝামেলা এড়াতে অনেকে নৌরুটের যাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। যাত্রীদের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের একই দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন যানবাহনচালকরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা যায়, ঈদের সময় ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এবার ভোগান্তি কমাতে আগাম পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দৌলতদিয়া প্রান্তে বর্তমানে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট সচল রয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিআইডব্লিউটিসির বহরে থাকা ১৬টি ফেরি।

ঝামেলা এড়াতে ঈদের কয়েক দিন আগেই বাড়ি ফিরছেন খুলনার বাসিন্দা মো. রফিক। তিনি বলেন, নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারলে ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায়। আমরা চাই দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াত। যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হতে হয়।

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশের পর সোচ্চার চালকরা
শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকালে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে এক অনুষ্ঠানে নির্দেশ দেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। মৌসুমি কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে। ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে। আমরা দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চাই। যারা ঈদে বাড়িতে আসবে, ঘাটে পা রাখলেই যেন সেই পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারে।

দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে যশোর চলাচল করা বাসচালক মো. লতিফ বলেন, আমরা চাই, প্রশাসন যেন চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তাহলে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় এই রুটে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। ফেরি বেশি চালু রাখা হলে ঘাটে শৃঙ্খলা থাকবে। তাহলে আমাদেরও সুবিধা হবে, যাত্রীদেরও কষ্ট কম হবে। 

এক ট্রাকচালক বলেন, ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার রাস্তা বা স্লোপ এবং সরু সড়ক আমাদের জন্য ভোগান্তির কারণ। ঈদের সময় যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যদি ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয় এবং নিয়মিত চলাচল নিশ্চিত করা যায়, তাহলে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, ঈদের আগে ও পরে যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় রেখে ১৬টি ফেরি নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখা হবে। যানবাহন দ্রুত ও নিরাপদে পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় যানবাহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ঘাট এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফিক্সড পেট্রোল ও মোবাইল পেট্রোল টিম দায়িত্ব পালন করবে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। ডিবি পুলিশের বিশেষ টিমও কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, ঘাট এলাকার যেসব স্থানে আলোর স্বল্পতা রয়েছে সেখানে অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। যানজট নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে।