বিএনপির প্রার্থী বাদশার বার্ষিক আয় ১০ লাখ, স্ত্রীর ৫০ লাখ

বগুড়া-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম কল্পনার আয় ও সম্পদ গত পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালের পৌরসভা নির্বাচনের হলফনামার সঙ্গে ২০২৬ সালের উপনির্বাচনের হলফনামা তুলনা করে দেখা গেছে, তাদের মোট আয় ও সম্পদের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণের মতো বেড়েছে।
২০২৬ সালের হলফনামা অনুযায়ী, রেজাউল করিম বাদশার বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৬৬ হাজার ২০০ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি ভাড়া থেকে ৩০ হাজার, ব্যবসা থেকে ৩ লাখ ২৪ হাজার এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৭ লাখ ১২ হাজার টাকা। ২০২১ সালে তার বার্ষিক আয় ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে আয় বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৬ সালের হলফনামা অনুযায়ী তার মোট সম্পদ ১ কোটি ৬৬ লাখ ৮৪ হাজার ২৮০ টাকা। বাদশার নামে রয়েছে ৩২ শতক অকৃষি জমি, একটি দোকান, শিববাটি মৌজায় ৯৫০ বর্গফুটের বাড়ি, একটি মাইক্রোবাস এবং মেসার্স রেজাউল অ্যান্ড ব্রাদার্স ব্যবসায় ৯২ লাখ ২১ হাজার ২৪০ টাকার বিনিয়োগ। এছাড়া ৩২ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকার সঞ্চয়পত্রও রয়েছে।
২০২১ সালের হলফনামায় তার ব্যাংকজমা ছিল ১০ লাখ ১০ হাজার ১৫১ টাকা। সেই সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কিছু যন্ত্রপাতি এবং একটি দোকান ছাড়া বড় কোনো সম্পদ ছিল না।
পেশায় ব্যবসা ও শিক্ষকতা করা বাদশার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম কল্পনার আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালে তার বার্ষিক আয় ৪৯ লাখ ২০ হাজার ৫১৩ টাকা। এর মধ্যে কৃষি থেকে ৬ লাখ ৮০ হাজার, বাড়ি ভাড়া থেকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫১৩ এবং ফ্ল্যাট বিক্রি ও অন্যান্য উৎস থেকে ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
মনোয়ারার সম্পদও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তার নামে কাটনারপাড়া মৌজায় নির্মাণাধীন ছয়তলা বাড়ি, একটি ফ্ল্যাট, ১২ হাজার ১২৫ বর্গফুটের একটি বাসা, এফডিআর, সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া একটি মাইক্রোবাস, ২০ তোলা স্বর্ণ এবং প্রায় পাঁচ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, তার ব্যাংকজমা ছিল ৩১ লাখ ৫৩ হাজার ১০৭ টাকা এবং এফডিআর ১৫ লাখ ৪৫ হাজার ৩১৫ টাকা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল তার হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন, ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩৩ টাকা (শিক্ষকতা থেকে) এবং বাড়ি ভাড়া থেকে ৪৫ হাজার টাকা। তার সম্পদ ২৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। চলতি বছরে তিনি ৩ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে তার নামে ৫৭টি মামলা ছিল, সব খালাসপ্রাপ্ত। তার স্ত্রী গৃহিণী, কোনো আয়ের তথ্য নেই।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন ব্যবসা থেকে বছরে ২ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার সম্পদ ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের নামে রয়েছে ১০ ভরি স্বর্ণ এবং ২০ লাখ টাকার সম্পদ।
২০২৬ সালের জানুয়ারি অনুযায়ী, বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন।
উপনির্বাচনের দিকে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতৃত্বের নজর রয়েছে, কারণ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে এই আসনে তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৯০ ভোটে জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবিদুর রহমান সোহেল পান ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর তিন প্রার্থীকেই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) যাচাই-বাছাই শেষে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ফজলুল করিম এ ঘোষণা দেন। আগামী ১৪ মার্চ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। পরদিন ১৫ মার্চ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোগ গ্রহণ করা হবে।