সাবলেট বাসায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীর বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন

রাজধানীর কদমতলীতে ইয়ানুর বেগম নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী জুয়েলের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোয়াবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইয়ানুর হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ লোকজন জুয়েলের গ্রামের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে কদমতলী থানাধীন ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৭০ নম্বর গলির একটি সাবলেট বাসা থেকে ইয়ানুরের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি খাটের নিচে ছিল। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী জুয়েল পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, প্রায় তিন মাস আগে জুয়েলের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন ইয়ানুর। এরপর তারা ওই বাসায় সাবলেট ভাড়া নিয়ে থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। ঘটনার রাতেও ঝগড়ার পর ইয়ানুর ফোনে তার মাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। শুক্রবার সকালে ইয়ানুরের ভাই ইমাম হোসেন বোনকে ফোনে না পেয়ে ওই বাসায় যান। কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে খাটের নিচে ইয়ানুরের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
নিহত ইয়ানুর বেগম পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোয়াবাড়িয়া গ্রামের হানিফ হাওলাদারের মেয়ে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত জুয়েলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে তার গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।