লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল/১৮ মাসের কাজ চলছে ৭২ মাস ধরে

১৮ মাসের কাজ পেরিয়েছে ৭২ মাস, অথচ এখনও শেষ হয়নি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ। দীর্ঘ ৬ বছরের এই স্থবিরতায় পুরোনো ১০০ শয্যার ভবনেই ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগীর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। ফলে তীব্র শয্যা সংকট, স্থানাভাব আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মেঝে-বারান্দায় শুয়েই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।
হাসপাতাল ও গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ সদর হাসপাতালকে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের জুনে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘রুপালি জিএম অ্যান্ড সন্স কনসোর্টিয়াম’। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ভবনটি হস্তান্তরের কথা থাকলেও, একাধিকবার সময় ও প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী ভর্তি থাকছেন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী হওয়ায় হাসপাতালের ওয়ার্ডের মেঝে, করিডোর, বারান্দা, এমনকি শৌচাগারের সামনের অংশেও চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাফসা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেড না পেয়ে কয়েক দিন ধরে মেঝেতে আছি। নোংরা আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে সুস্থ হওয়া তো দূরের কথা, আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার জোগাড়।
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে আসা মিনতি রানি দাস জানান, একটি বেডেই একাধিক শিশুকে রাখতে হচ্ছে। এতে এক শিশুর শরীর থেকে অন্য শিশুর শরীরে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ইকবাল মাহমুদ জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা চিকিৎসকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। নতুন ভবনটি দ্রুত চালু করা না গেলে এই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সীমিত শয্যা ও জনবল নিয়ে চিকিৎসক-নার্সদের দিনরাত বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে। নতুন ভবনে ২৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হলে রোগীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি চিকিৎসার মানও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার ইসমাইল হোসেন বলেন, বিগত সময়ে করোনা মহামারি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আমরা দ্রুত কাজ শেষ করে ভবনটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার চেষ্টা করছি।
স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুর রহমান জানান, আগের টেন্ডারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজটি স্থগিত রয়েছে। আমরা আবার টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদার দিয়ে আগামী এক বছরের মধ্যে কাজটি শেষ করব।





