logo

হত্যা ও ডাকাতির মামলায় নাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা বহিষ্কার

হত্যা ও ডাকাতির মামলায় নাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা বহিষ্কার
বাঁ থেকে মো. গোলাম জাহিদ ও মো. মারুফ হোসেন। ছবি : এশিয়া পোস্ট কোলাজ

মাগুরায় যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা ও ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির পৃথক ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক কাজী আব্দুল্লাহ-আল-মামুন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. গোলাম জাহিদ এবং মাগুরা সদর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মারুফ হোসেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গোলাম জাহিদ ও মারুফ হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

এর আগে, শাকের হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন গোলাম জাহিদ। সোমবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার দুপুরে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়। এ নিয়ে এ হত্যা মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে, এ মামলায় গ্রেপ্তার হন যুবদল নেতা রনি শিকদার, শামীমা ইয়াসমিন লুবনা, স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদার এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন।

পুলিশ পরিচয়ে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতি

শাকের হোসেন হত্যা মামলার পাশাপাশি মাগুরায় আলোচিত ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনাতেও নাম এসেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মারুফ হোসেনের। গত ৬ অক্টোবর দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে একটি বাস থামিয়ে সোনা ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদারের কাছে ১৫০ ভরি স্বর্ণ নিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমান। গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি রামনগর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামায়। পরে মজিবর রহমানকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় তার কাছে থাকা স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। ডাকাতেরা তার কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ ভরি সোনা ও নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মারুফ হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মারুফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির ঘটনায় খোয়া যাওয়া পাঁচটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। এ মামলায় আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাস কাউন্টারে গুলিতে নিহত হন শাকের

গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন (৩৯)। এ ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন। মামলাটির তদন্তে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির সঙ্গে শাকের হোসেন হত্যা মামলার সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

রবিউল ইসলাম

সম্পাদনা

রবিউল ইসলাম

সাব এডিটর | এশিয়া পোস্ট