কুমিল্লা এলজিইডিতে মন্ত্রী ও সাবেক প্রকৌশলীর ছবি টাঙানো নিয়ে বিতর্ক

কুমিল্লায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বর্তমান ও সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর ছবি টাঙানো নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ছবি টাঙানো নিয়ে প্রশ্নের মুখে সেগুলো সরিয়ে ফেলার কথা জানিয়েছেন কুমিল্লা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) কুমিল্লা এলজিইডি কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ছবি ও নামসংবলিত একটি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং এলজিইডির বর্তমান ও সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর ছবি রয়েছে।
কার্যালয়ে প্রদর্শিত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম সিদ্দিক।

সরকারি দপ্তরে এ ধরনের ছবি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কোনো বিধি, পরিপত্র বা দাপ্তরিক নির্দেশনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ছবিগুলো টাঙানোর জন্য কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলী চৌধুরী বলেন, সরকারি দপ্তর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়। এখানে দাপ্তরিক নিয়মনীতি ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের ছবি টাঙানোর ক্ষেত্রে কোনো বিধি বা নির্দেশনা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
কুমিল্লা সচেতন নাগরিক আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি ডা. আতিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সরকারি কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন ও সাবেক কর্মকর্তাদের ছবি টাঙানো হলে তা প্রচলিত বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, যাচাই করা দরকার। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আনুকূল্য লাভের উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা-ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিন বলেন, নিজ উদ্যোগে ও নিজ অর্থায়নে ছবিগুলো টাঙিয়েছি। এসব আমি সরিয়ে ফেলব। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না।

