logo

বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় দোকানির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন

বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় দোকানির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন
আগুনে দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাকিতে সিগারেট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি মনোহারি দোকানে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দোকানমালিক ইব্রাহিম খলিল (৪৫) গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। আগুনে দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ ইব্রাহিম খলিল সান্দিকোনা ইউনিয়নের চেংজানা গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে। তিনি সাহিতপুর বাজারে মনোহারি দোকান পরিচালনা করতেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবক সুমন মিয়া একই গ্রামের কাদের নেওয়াজের ছেলে।

সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলাম জানান, আগুনে খলিলের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। তার অবস্থা গুরুতর।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন প্রায়ই ওই দোকান থেকে বাকিতে জিনিসপত্র নিতেন এবং পরে টাকা পরিশোধ করতেন না। বৃহস্পতিবার রাতেও তিনি দোকানে গিয়ে খলিলের কাছে বাকিতে সিগারেট চান। তবে খলিল বাকিতে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে সুমন দোকানের সামনে বিক্রির জন্য রাখা একটি বোতল থেকে পেট্রোল নিয়ে দোকানের ভেতরে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ইব্রাহিম খলিল দগ্ধ হন।

ঘটনার পর বাজারের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে খলিলকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুমন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। দগ্ধ খলিলের স্বজনেরা বর্তমানে ঢাকায় তার চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকায় এলাকায় ফিরে থানায় মামলা করবেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।