বাঁধনের ওপর হামলার পর মনিরুলের বাড়িতে তালা, আত্মগোপনে পরিবার

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় আলোচনায় আসা মনিরুল হাওলাদারের মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে এখন তালা ঝুলছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হামলার আশঙ্কায় তার মা ও পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মনিরুল হাওলাদারের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালাসীকান্দি এলাকায়। তিনি ওই এলাকার মৃত শাহজাহান হাওলাদারের কনিষ্ঠ ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় থাকাকালে তিনি আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি ধুরাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলেও এলাকাবাসী জানান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে দালালের মাধ্যমে প্রায় ২৮ লাখ টাকা খরচ করে লিবিয়া হয়ে ইতালি যান মনিরুল। বিদেশ যাওয়ার জন্য বিপুল টাকা ব্যয় করলেও এখনো ঋণের বোঝা পুরোপুরি শোধ করতে পারেননি বলে তার পরিবারের ঘনিষ্ঠরা জানান।
এলাকাবাসী জানান, মনিরুলের গ্রামের বাড়িতে তার বৃদ্ধ মা আলেয়া বেগম ও বড় ভাইয়ের পরিবার বসবাস করতেন। তিন বোনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। জরাজীর্ণ একটি দোচালা ঘরেই তাদের বসবাস। ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের একজন অভিনয়শিল্পীর ওপর এমন ঘটনায় এলাকার মানুষও বিব্রত ও ক্ষুব্ধ। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তির আইনগত শাস্তি দাবি করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য মনিরুলকে তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন কেউ কেউ।
মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, এখনো বাড়িঘর করতে পারেনি। মাথার ওপর ঋণের বোঝা। টাকা-পয়সা কামানো বাদ দিয়ে দল করা শুরু করেছে। আমি সৎভাই, এক পয়সাও আমাকে দেয় না। বিদেশে বসে দেশের মান-সম্মান নষ্ট করেছে। ওর বিচার হোক। আমরা ওর সঙ্গে নেই। এমন লোক থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। ওর মা, ভাই-বোন সবাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য মনিরুলের বাড়ির আশপাশে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কামাল আজাদ বলেন, ঘটনাটি জানার পরই মনিরুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ যেন বাড়িঘরে হামলা করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকেও জানানো হয়েছে। তিনিও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন।


