logo
Advertisement

বগুড়ায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড

বগুড়ায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় গরমের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে অস্বস্তি চরম আকার ধারণ করেছে। দুপুর গড়াতেই শহর ও গ্রামাঞ্চলের সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়ছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৩টায় বগুড়া আবহাওয়া অফিস জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে। চলতি মৌসুমে এটিই জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। কয়েক দিন ধরেই তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী থাকায় গরমের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

শহরের নবাববাড়ী সড়কে রিকশাচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে রিকশা চালাচ্ছি। দুপুরের পর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকাই কষ্টকর হয়ে যায়। মাথার ওপর আগুনের মতো রোদ। একটু ছায়া পেলেই সেখানে গিয়ে বসে থাকছি।

ফল বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গরমের কারণে মানুষ কম বের হচ্ছে। বিক্রিও কমে গেছে। সারাদিন দোকানে বসে থাকলেও স্বস্তি নেই। বারবার ঠান্ডা পানি খেতে হচ্ছে।

শহরের সাতমাথা এলাকায় কথা হয় গৃহবধূ রুমা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘরের ভেতরেও গরম সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফ্যান চললেও তেমন কাজ হচ্ছে না। শিশুদের নিয়ে বেশি সমস্যায় আছি।

শেরপুর উপজেলার কৃষক আবদুস সামাদ বলেন, জমিতে কাজ করতে গিয়ে বারবার বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। রোদে বেশিক্ষণ থাকলে মাথা ঝিমঝিম করে। সকাল আর বিকেলের দিকে কাজ করার চেষ্টা করছি।

বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিকেল ৩টায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটি এ মৌসুমে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং আকাশে মেঘের উপস্থিতি কম থাকায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।

গরমের কারণে শহরের বিভিন্ন মোড়ে ডাব, আখের রস, শরবত ও ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় তাদের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই বাইরে বের হলে পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বৃষ্টির দেখা না মিললে আগামী দিনগুলোতে গরমের অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে তাপমাত্রার চেয়ে গরমের অনুভূতি বেশি হওয়ায় মানুষ স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন।