logo

১২০ বছরের ঐতিহ্য, তবুও জাতীয়করণ হয়নি কাউনিয়া বিদ্যালয়

১২০ বছরের ঐতিহ্য, তবুও জাতীয়করণ হয়নি কাউনিয়া বিদ্যালয়
বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাউনিয়া এমদাদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছবি: স্কুলের সৌজন্যে

বরগুনার বেতাগীতে ১২০ বছরের পুরোনো কাউনিয়া এমদাদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসা প্রতিষ্ঠানটির পর্যাপ্ত জমি, বড় খেলার মাঠ ও ঐতিহ্য থাকলেও এখনও সরকারি সুবিধার বাইরে রয়েছে।

১৯০৬ সালের ১ জানুয়ারি আবি আব্দুল্লাহ খাঁনের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এ বছর ১২০ বছরে পদার্পণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, বেতাগী উপজেলা গঠনেরও আগে থেকে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪৪৮ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির ১০০ শতাংশ আয়তনের একটি খেলার মাঠ রয়েছে। বিদ্যালয়টির বোর্ড স্বীকৃতি আসে ১৯৪৬ সালে। দীর্ঘ পথচলায় এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিসিএস ক্যাডার, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশায় অনেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

স্থানীয়ভাবে মানসম্পন্ন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম থাকায় কাউনিয়া এমদাদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। সাম্প্রতিক পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

স্থানীয় বাসিন্দা গাজী শাহীন বলেন, পূর্বপুরুষেরা বিদ্যালয়টির উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। আগামী প্রজন্মের শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারি তালিকাভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

প্রকৌশলী ও কবি আদিল সাদ বলেন, উপজেলা গঠনের আগেই কাউনিয়া এমদাদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র ছিল। এত দীর্ঘ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও এখনও বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ না হওয়া হতাশাজনক।

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ১২০ বছর ধরে এই অবহেলিত জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। সরকারের নীতিমালায় ঐতিহ্যবাহী ও শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের বিধান থাকলেও পর্যাপ্ত জমি, মাঠ ও গৌরবময় অতীত থাকা সত্ত্বেও এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠটি এখনও সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।