logo

স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন, ইউএনওর নির্দেশে স্বামীকে আটক

স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন, ইউএনওর নির্দেশে স্বামীকে আটক

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর ওপর স্বামী অমানবিক নির্যাতন করেন। এ ঘটনার একটি সিসি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মিয়ারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর রাম সুমি আক্তার। তার স্বামী অভিযুক্ত সোহাগ মাঝি (৩৮) ওই এলাকার দিনমজুর জব্বার মাঝির ছেলে।

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নজরুল ইসলাম শনিবার (৭ মার্চ) রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এলাকাবাসীর মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার জব্বার মাঝির ছেলে সোহাগ মাঝি দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। তার জেরে স্ত্রী সুমি আক্তারকে মারধর ও নির্যাতন করেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত স্বামী সোহাগ প্রকাশ্যে স্ত্রীকে মারধর করছেন এবং তাকে লাঞ্ছিত করছেন। এ সময় আশপাশের কিছু লোকজন ঘটনাটি দেখলেও কেউ কেউ ভয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেননি।

সুমি ও সোহাগের প্রতিবেশীরা জানান, সম্প্রতি সুমিকে তার স্বামীর নির্যাতন করেন। তাদের ঘরে থাকা সিসি ক্যামেরায় তা ধারণ হয়। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেশীরা আরও জানান, সোহাগ উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। তিনি প্রায়ই বাড়িতে স্ত্রীকে নির্যাতন করেন। তারা বিষয়টিকে অমানবিক ও ন্যক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন এবং এ অপরাধে সোহাগের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।

নির্যাতনের শিকার সুমি আক্তার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি ওই স্বামী নামের নরপশুর বিচার চাই। আর কোনো মেয়ে যেন এমন নির্যাতনের শিকার না হয়।’

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, ‘ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত সোহাগ মাঝিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখেই তাকে গ্রেপ্তারের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’