logo

নিজের বাল্যবিয়ে রুখতে ইউএনও অফিসে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী

নিজের বাল্যবিয়ে রুখতে ইউএনও অফিসে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী
বাল্যবিয়ে রুখতে ইউএনও অফিসে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় নিজের বাল্যবিয়ে রুখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে হাজির হন ১২ বছরের কিশোরী সামিরা (ছদ্ম নাম)। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইউএনও কার্যালয়ে এসে নিজের বিয়ে বন্ধ এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আকুতি জানায় ষষ্ঠ শ্রেণির এই ছাত্রী। কিশোরীর এমন সাহস ও দৃঢ়তা দেখে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেন ইউএনও মাজহারুল ইসলাম।

জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা সামিরার পরিবার সম্প্রতি তাকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বাল্যবিয়েতে বিন্দুমাত্র সায় ছিল না তার। পরিবারকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে সে একাই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। প্রথমে থানায় ও পরে ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে।

বিষয়টি জানার পরই ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে সামিরার পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। উপস্থিত সবার সামনে বাল্যবিয়ের কুফল ও আইনি বাধ্যবাধকতা তুলে ধরা হলে পরিবার তাদের ভুল বুঝতে পারে। তারা সামিরাকে এখন বিয়ে দেবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দেয়।

সামিরার অদম্য ইচ্ছাকে আরও দৃঢ় করতে তার পড়াশোনার খরচ চালাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। এই অর্থ দিয়ে তার জন্য নতুন বই, স্কুলব্যাগ ও পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শিবগঞ্জ ইউএনও মাজহারুল ইসলাম বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়লেও মেয়েটির চিন্তা-ভাবনা অত্যন্ত স্পষ্ট ও পরিপক্ক। সে তার স্বপ্নের কথা আমাদের জানিয়েছে। আমরা শুধু বিয়ে বন্ধ করিনি, তার পড়াশোনা যেন থেমে না যায় সে ব্যবস্থাও করেছি। সামিরা যাতে নির্বিঘ্নে পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, উপজেলা প্রশাসন সব সময় তার পাশে থাকবে।

শ্যামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, পিতৃহীন এই পরিবারটির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত অসচ্ছল। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। এত প্রতিকূলতার মাঝেও সামিরার শিক্ষার প্রতি এই অদম্য আগ্রহ পুরো এলাকার জন্য একটি বার্তা। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও তার পড়াশোনায় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।