logo

ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছেলের শাস্তি চাইলেন বাবা

ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছেলের শাস্তি চাইলেন বাবা
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে ইয়াবা সেবনের দায়ে তোফায়েল মিয়া নামের এক যুবককে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেন ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সকিনা আক্তার। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ইয়াবা সেবনের অভিযোগে আটক ছেলের শাস্তি চাইলেন বাবা। ছেলের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে তাকে কয়েক মাস কারাগারে রাখার অনুরোধ জানান তিনি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই যুবককে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ দণ্ড দেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সকিনা আক্তার।

দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম মো. তোফায়েল মিয়া (২৬)। তিনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের বাঘবের গ্রামের খোকা মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তোফায়েলকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় আটক করেন গ্রামবাসী। পরে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তার বাবা ছেলের শাস্তির দাবি জানান।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সকিনা আক্তার বলেন, মাদকাসক্ত তোফায়েলের যন্ত্রণায় তার পরিবার অতিষ্ঠ। গ্রামের লোকজন তাকে আটক করেছিলেন। পরে তার বাবা নিজেই ছেলেকে কয়েক মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

সকিনা আক্তার আরও বলেন, মাদক দেশ ও সমাজের শত্রু। মাদকের কারণে তরুণ সমাজের পাশাপাশি অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদক প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শুধু মাদকসেবীদের শাস্তি দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। যারা মাদক কেনাবেচা করেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

ইউএনও বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত তোফায়েল মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় খোঁজখবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে তোফায়েল মিয়া বলেন, আমি কেন একা ফাঁসব? যারা আমাকে মাদকসেবন শিখিয়েছে, তাদের নাম আমি প্রকাশ করে দেব।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তোফায়েল দাবি করেন, ইয়াবা কেনাবেচার সঙ্গে তার গ্রামের কালা মিয়া, সফিক মিয়া, তোতা মিয়া, তাজ্জুদ আলী ও শাহাব উদ্দিন এবং একই এলাকার আকতাপাড়া গ্রামের এরশাদ মিয়া ও রতারগাঁও গ্রামের হামিদ মিয়া জড়িত।

বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তোফায়েল নামের এক যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি থানা হাজতে আছেন। তাকে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হবে। কারও বিরুদ্ধে মাদক সেবন বা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।