সুনামগঞ্জে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ইমাম কারাগারে

সুনামগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মসজিদের ইমাম হুমায়ুন আহমেদকে (৩০) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর জোনের আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে সোপর্দ করা হলে বিচারক জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এমদাদ তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কলেজছাত্রীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পাশাপাশি জামিন শুনানিতে আসামি পক্ষের কোনো আইনজীবী অংশ নেননি বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের জেনারেল রেজিস্টার অফিসার (জিআরও) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরিদ আহমেদ।
গ্রেপ্তার হুমায়ুন আহমেদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের ইছব আলীর ছেলে। তিনি উপজেলার রতারগাঁও দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের পাশের বাসিন্দা এবং দিগেন্দ্র বর্মন সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন হুমায়ুন। গত ২৪ মে রাতে মেসেজ পাঠিয়ে মেয়েটিকে মসজিদের সংলগ্ন নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করেন তিনি। পরে গত ১৭ জুলাই দুপুরে আবারও নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ধর্ষণ করে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে মেয়েটি বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
এ ঘটনায় ২৬ জুলাই ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ দিলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাঘবের বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত ইমামকে গ্রেপ্তার করে বিশ্বম্ভরপুর থানা-পুলিশ।
এদিকে আজ বুধবার ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি (২২ ধারা) প্রদান করেছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত হুমায়ুনের স্বজন ও অনুসারীরা এই মামলাটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।



