জমির বিরোধে খুঁড়ে রাখা হয়েছে রাস্তা, দুই বছর ধরে ভোগান্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের ‘বাঙ্গরা-বলিবাড়ী’ সড়কের একটি অংশ কেটে গভীর গর্ত তৈরি করায় প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। এতে ছয় গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে প্রায় ১২ ফুট প্রশস্ত করে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটির সংস্কার কাজও সম্পন্ন করে। তবে রাস্তার একটি অংশ মোবারক হোসেন নামে এক ব্যক্তির প্রায় পাঁচ শতক জমির ওপর দিয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থেকে পশ্চিম দিকে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বাঙ্গরা, আশরাফপুর, বলিবাড়ী, চেচড়া ও সাতমোড়া গ্রামের মানুষের উপজেলা সদর ও জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আগে প্রতিদিন শত শত মানুষ সিএনজি, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনে চলাচল করলেও বর্তমানে রাস্তার মাঝখানে বড় গর্ত করায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম, আব্দুল মজিদ ও এখলাস মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্রামের মানুষের কষ্টের কথা কেউ চিন্তা করে না। দুই বছর ধরে রাস্তা বন্ধ, আমরা খুব দুর্ভোগে আছি।
এলাকাবাসীর দাবি, বাঙ্গরা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোবারক হোসেন তার জমির ওপর রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদে প্রায় ১৫ ফুট রাস্তা কেটে গভীর গর্ত তৈরি করেন। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।

জিনদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল রবি বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুলের উপস্থিতিতে মোবারক হোসেন জনস্বার্থে জমি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিলেন। এরপর সড়কের উন্নয়ন কাজ হয়। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর তিনি রাস্তা কেটে গর্ত তৈরি করেন। এতে সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।
নবীনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব কাউছার আহমেদ বলেন, এটি একটি জনদুর্ভোগের বিষয়। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন।
তবে নিজের অবস্থানের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, আমার ব্যক্তিগত জায়গার ওপর জোর করে রাস্তা করা হয়েছে। সাবেক এমপি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আমার বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। জমি নিতে হলে মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া উচিত ছিল।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান এশিয়া পোস্টকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।