logo

‘বাঁচাও বাঁচাও বলে মা চিৎকার করেছিল, কিন্তু কেউ ঘরে ঢুকতে পারেনি’

‘বাঁচাও বাঁচাও বলে মা চিৎকার করেছিল, কিন্তু কেউ ঘরে ঢুকতে পারেনি’

খুলনার রুপসা উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার আচগাতি ইউনিয়নের খান মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকার একেএস ক্লাবের পিছনে ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিম্মি বেগম (৫০) ওই গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে নাদিম ইসলামকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাদিম দীর্ঘদিন ধরে বখাটে স্বভাবের ও মাদকাসক্ত। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মায়ের কাছে মাদক কেনার জন্য ৫০০ টাকা দাবি করেন। মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সকালে এর জের ধরে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে মায়ের ওপর হামলা চালান নাদিম। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মিম্মি বেগম। ছেলে নাদিম এতেও ক্ষান্ত না হয়ে শিল-বাটা দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় মিম্মি বেগমের ডাক-চিৎকারে এলাকার মানুষ জড়ো হন। কিন্তু ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় কেউ ঘরে প্রবেশ করতে পারেননি।

এদিকে খবর পেয়ে সকাল পৌনে ৯টার দিকে আইচগাতি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা অভিযুক্তকে আটক করার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের একাংশ উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা নাদিমকে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

নিহত মিম্মি বেগমের মেয়ে শিলা বলেন, মা প্রথমদিকে বাঁচার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল। বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করেছিল, কিন্তু ঘরের দরজা ভিতর থেকে আটকানো থাকায় কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মল্লিক বলেন, নাদিম মাদকাসক্ত ও বেকার জীবন কাটাচ্ছিল। মা মিম্মি বেগম বাড়ি বাড়ি গিয়ে থ্রিপিস কাপড়ের ব্যবসা করত। ছেলে প্রায়ই নেশার টাকার জন্য মায়ের সঙ্গে ঝামেলা করত।

এ বিষয়ে রূপসা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে আটক করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই যুবক মাদকাসক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।