৭ বছরেও শেষ হয়নি ১২ কোটি টাকার মডেল মসজিদের কাজ

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদ নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, দীর্ঘসূত্রতা এবং তদারকির অভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরে বিষয়টি নিয়ে ইউএনও লিখিত অভিযোগ দিলেও মেলেনি সাড়া।
সরেজমিন দেখা গেছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালু, ইট ও মার্বেল টাইলস ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব সামগ্রীর গুণগত মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, কাজের মান নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকির অভাব থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছে। এতে ভবিষ্যতে স্থাপনার স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, নিম্নমানের হওয়ায় এক দফা মার্বেল টাইলস ভেঙে ফেলা হয়। পরে পুনরায় যে টাইলস বসানো হয়েছে, সেটিও মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ব্লক ইটের পরিবর্তে দেশীয় ইট ব্যবহার এবং ওয়াল প্লাস্টারে পলিমাটি সমৃদ্ধ বালু ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম সরেজমিন নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। পরে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল গণপূর্ত অধিদপ্তরে পৃথক দুটি লিখিত পত্র পাঠিয়ে নির্মাণকাজের অনিয়ম, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং ধীরগতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি। তবে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর এখনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ‘টিবিইএল অ্যান্ড আইসি এমএসএল জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় বাসিন্দা কফিল উদ্দিন জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই ধীরগতিতে কাজ করছে। তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাত বছর পার হয়ে গেলেও প্রকল্পটি এখনও অসম্পূর্ণ। কয়েক দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজের গতি কচ্ছপগতির মতোই রয়েছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার নির্মাণকাজে এমন অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং কাজের মান নিশ্চিত করা দরকার।
নির্মাণকাজের সাব-ঠিকাদার এজিবুল মিয়া বলেন, কাজ কখন শেষ হবে, তা মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করছে। তারা যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছে, আমরা সেভাবেই কাজ করছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হেমায়েত উল্লাহ বলেন, আমরা শিডিউল অনুযায়ী কাজ করছি। গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে আমাদের কাজ তদারকি করছে।
লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারসহ তিনজনকে নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। সেখানে ব্যবহৃত মার্বেল টাইলস, বালু ও ইটের মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে জানানো হলেও কোনো জবাব পাইনি।
অন্যদিকে হবিগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাছান বলেন, আমরা নিয়মিতভাবে নির্মাণকাজ তদারকি করছি। এরই মধ্যে বেশ কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো সংশোধনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
.png)


