নীলফামারীতে এক শূন্যপদে দুই শিক্ষক বদলি

বদলি পরিপত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও নীলফামারীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। একই শূন্যপদে উপজেলা পর্যায়ে বদলি আদেশ জারির পর বিভাগীয় পর্যায় থেকে আন্তঃবিভাগ বদলি আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্র ও বিভাগীয় আদেশ অনুযায়ী, একই শূন্যপদে বিভাগীয় পর্যায়ের বদলি আদেশ জারি হলে উপজেলা পর্যায়ে আগের জারি করা বদলি আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার কথা। তবে অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা পর্যায়ে বদলি হওয়া শিক্ষক এখনো নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ২০ আগস্ট নীলফামারী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সদর উপজেলার টুপামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট রংপুর বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্তঃবিভাগ বদলি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একই শূন্যপদে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুন্নাহার নূরীকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এ আদেশ ২৫ আগস্ট জারি করেন রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান (চলতি দায়িত্ব)।
বদলি পরিপত্র-২০২৬ ও বিভাগীয় বদলি আদেশে বলা হয়েছে, শূন্যপদের বিপরীতে একই বিদ্যালয়ের একই শূন্যপদে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিভাগীয় উপপরিচালকের বদলি আদেশ জারি হলে বিভাগীয় পর্যায়ে জারি করা আদেশই বহাল থাকবে।
এই নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ের বদলি আদেশ কার্যকর হওয়ার পর একই শূন্যপদে উপজেলা পর্যায়ে আগে জারি করা বদলি আদেশের কার্যকারিতা থাকার কথা নয়। কিন্তু অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ে বদলি হওয়া শিক্ষক সাইফুল ইসলাম এখনো তার নতুন কর্মস্থল মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বদলি কমিটির পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে একদিকে বদলি প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট নিয়ম বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে জটিলতায় পড়েছেন শিক্ষকরা। একই শূন্যপদে একাধিক বদলি আদেশ জারি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে শিক্ষক ব্যবস্থাপনাতেও জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ের আদেশ জারির পরও উপজেলা পর্যায়ে বদলি হওয়া শিক্ষক কীভাবে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, উপজেলা পর্যায়ে বদলি হওয়া শিক্ষকের যোগদান বহাল রাখার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছে এবং বদলি পরিপত্রের স্পষ্ট নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বদলি কমিটির সদস্যসচিব জছিজুল আলম মন্ডল বলেন, বস ইজ অলওয়েজ রাইট। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেটা করবেন, সেটাই ঠিক। তবে সমন্বয়হীনতার কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে উপজেলা বদলি কমিটি বলতে পারবে।


