চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু অপহরণ, বিছানায় মুক্তিপণের চিঠি

চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের পর বিছানায় মুক্তিপণ দাবি করে চিঠি রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খিল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। বুধবার (১৭ জুন) বিষয়টি জানাজানি হয়।
অপহৃত শিশুর নাম মো. জায়হান। সে স্থানীয় গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুরে শিশু জায়হান বাড়ির সামনে খেলছিল। কিছু সময় পর তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে এবং স্থানীয় পুকুরগুলোতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও তার সন্ধান না মেলায় তাৎক্ষণিকভাবে পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জায়হানের নিখোঁজের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে ভিড় করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর, বেলা ৩টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরের একটি বিছানায় হাতে লেখা একটি চিঠি দেখতে পান। পুলিশের ধারণা, প্রতিবেশীদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি চিঠিটি ঘরের ভেতরে রেখে গেছে।
চিঠিতে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের কোনো একজন সদস্যের আনলক করা মোবাইল ফোনসহ টাকাগুলো একটি ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত বা ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে সবাইকে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে পুলিশকে বিষয়টি না জানানোর জন্য হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের চালাকি বা আইনি পদক্ষেপ নিলে শিশুটির বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে। চিঠি পাওয়ার পর পরিবার ও স্থানীয়রা নিশ্চিত হন যে, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি দ্রুত পটিয়া থানা-পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘর থেকে মুক্তিপণের চিঠিসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, অপহরণের এই ঘটনাটিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
.png)


