পাঁচ মণ পাটের আঁশে দুর্গাপ্রতিমা, খরচ দেড় লাখ টাকা

বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাট। একসময় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই পাটের আঁশ দিয়েই তৈরি করা হয়েছে দুর্গাপ্রতিমা। সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার কেশবলাল ঘোষ মহাশ্মশানে প্রথমবারের মতো দুর্গাপূজার এ ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।
কৃষিপ্রধান বাংলার ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আয়োজকদের এ উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। পাটের তৈরি প্রতিমা দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমাটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে পাঁচ মণের বেশি পাটের আঁশ। প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে পাট দিয়ে প্রতিমা তৈরির এ উদ্যোগ পূজার আয়োজনে এনেছে ভিন্নতা। বাংলার কৃষি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক পাটকে দুর্গাপূজার সঙ্গে যুক্ত করে নতুন প্রজন্মের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরাই আয়োজকদের মূল উদ্দেশ্য।
প্রতিমা দেখতে আসা দর্শনার্থী পাখি দাস বলেন, পাট দিয়ে তৈরি প্রতিমাটি তার খুব ভালো লেগেছে। প্রতিমাটি দেখতে অনেক মানুষ আসছেন। প্রতিবছর এমন আয়োজন হলে আরও ভালো লাগবে।
আয়োজক কমিটির সদস্য দেবদাস কর্মকার বলেন, সোনালি আঁশ পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। একসময় পাট রপ্তানি করে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করত। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং পাটকে আরও পরিচিত করে তুলতেই দেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় পাট ব্যবহার করে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা দীপক কুমার ঘোষ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবার সঙ্গে এ মন্দিরে আসেন। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে পূজা ও প্রার্থনা করতে আসেন। এবার প্রথমবারের মতো দুর্গাপূজার আয়োজন হওয়ায় তিনি আনন্দিত। তার প্রত্যাশা, এ আয়োজন ঘিরে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটবে।
কেশবলাল ঘোষ মহাশ্মশানের সভাপতি গোবিন্দ সাধু বলেন, অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় মন্দিরে অনেক ভক্তের সমাগম হয়। তাদের কাউকে নিমন্ত্রণ করতে হয় না, তারা নিজেরাই আসেন। অনেকে এখানে মনোবাসনা পূরণের আশায় প্রার্থনা করেন। এবার সবার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
মন্দিরের সেবায়েত বাসুদেব বলেন, এখানে প্রথমবারের মতো পাটের প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। এ আয়োজন ঘিরে মানুষের মধ্যে বেশ সাড়া দেখা যাচ্ছে। প্রতিবছর যেন সুন্দরভাবে পাটের প্রতিমা তৈরি করা যায়, সেই প্রত্যাশা তাদের। পূজার আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত সাবেক শিক্ষক শিবপদ দাস বলেন, কৃষিপ্রধান বাংলার ঐতিহ্য পাটকে সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই প্রতিমায় পাটের ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরিতে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। পূজার অন্যান্য খরচসহ মোট ব্যয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হতে পারে।
আয়োজকদের আশা, পাটের তৈরি দুর্গাপ্রতিমার এ উদ্যোগ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ পাটের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে। একই সঙ্গে কৃষি ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতেও এ আয়োজন ভূমিকা রাখবে।
