logo

মধুমতীতে বিলীন বসতভিটা, খোলা আকাশের নিচে ১৩ পরিবার

মধুমতীতে বিলীন বসতভিটা, খোলা আকাশের নিচে ১৩ পরিবার
মধুমতীর নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা প্রবীণ কৃষক। একপাশে থইথই পানি, অন্যদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে নদীতীরে শুধুই হাহাকার। ছবি : এশিয়া পোস্ট

মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে অনিশ্চিত। গত ছয় মাসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ১৩টি বসতভিটা। ঘরবাড়ি হারিয়ে এসব পরিবারের কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ উঠেছেন অন্যের জমিতে। আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী কয়েক মাসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এছাড়া নদীতীরবর্তী আরও বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি রয়েছে ঝুঁকিতে।

ভাঙনে সর্বস্ব হারানো সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আমার সংসার সব চলে গেছে। সাতখান-আটখান করে বাড়ি চলে গেছে। এখন আমার আর কিছুই নাই। আগে এই জায়গা-জমি ভেঙে গেছে, এখন আমরা কোথায় যাব, কোনো জায়গা নাই। ছেলেমেয়ে নিয়ে কোথায় উঠব—সেই ব্যবস্থাটা আমাদের করে দেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল বলেন, ‘এখানে আটটি ঘর ছিল, আটটি ঘরই নদীতে চলে গেছে। আর এখানে বাকি যে ঘরগুলো আছে, সেগুলো হয়তো ছয় মাস থাকবে কি না, সেটাই সন্দেহ রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি, এখানে দ্রুত একটা ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং এই ভাঙন বন্ধ করা হোক।’

মধুমতী নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন। ছবি : এশিয়া পোস্ট
মধুমতী নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

মুক্তিযোদ্ধা হাসমত আলী শেখ বলেন, ‘আমার বাড়িসহ অনেক বাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক বাড়িঘর ভেঙে যাবে। আমরা চাই, সরকার জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিক।’

৭ নম্বর আটজুড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. লিটন মোল্লা বলেন, তার এলাকায় ২১টি পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া শত শত বিঘা ফসলি জমিও নদীতে চলে গেছে। এ বিষয়ে তিনি অনেকবার আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন।

লিটন মোল্লা বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে কিছু জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হলে হয়তো ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও আরও অনেক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চললেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাদের দাবি, ভাঙনপ্রবণ এলাকা দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আইরিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইলে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।