logo

অপ্রতিমকে নিয়ে অপপ্রচারে ক্ষুব্ধ চাচাতো বোন, বললেন ‘হত্যার বিচার চাই’

অপ্রতিমকে নিয়ে অপপ্রচারে ক্ষুব্ধ চাচাতো বোন, বললেন ‘হত্যার বিচার চাই’
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম ও তার চাচাতো বোন তাবাসসুম ঐশী। ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা মন্তব্য ও অপপ্রচারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার চাচাতো বোন তাবাসসুম ঐশী।

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একাধিক পোস্টে অপ্রতিমকে আপন বড় চাচার ছেলে ও ছোট ভাই উল্লেখ করে এসব মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান তাবাসসুম। তার দাবি, কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিমকে নিয়ে প্রেমিকাসহ নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

তাবাসসুম ঐশী তার এক পোস্টে লেখেন, অদ্ভুত এই সমাজে ভিকটিম মানেই এক যোগ্যতার পরীক্ষা। অপ্রতিম বাইক পছন্দ করত, টিকটক করত এবং নিজের চেয়ে বয়সে বড় কয়েকজনের সঙ্গে মিশত—এসব বিষয় সামনে এনে তাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।

তাবাসসুম লিখেছেন, অপরাধের বিচার করার আগে সমাজের মানুষ ভুক্তভোগীর চরিত্র বিচার করতে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে প্রকৃত অপরাধটি চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যায়। তার ভাষায়, ১৩ বছর বয়সে অপ্রতিমের কিছু সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে, কিন্তু এই বয়সে কয়জনই বা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তিনি আরও লেখেন, কোনো ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পর তার দামি জিনিস ছিনতাই হলে ছিনতাইকারীকে খোঁজার পরিবর্তে কেন ওই রাস্তা দিয়ে গিয়েছিল—এমন প্রশ্ন তোলার প্রবণতার সঙ্গে অপ্রতিমকে নিয়ে করা মন্তব্যের তুলনা করা যায়।

অপ্রতিম ও তার মা সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাবাসসুম ঐশী তার পোস্টে দাবি করেন, অপ্রতিমের মা তাকে আইফোন দিয়ে বাইরে যেতে বলেননি। পরিবারের অজান্তে সে ফোনটি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়েছিল। তার ভাষায়, অপ্রতিম ছিল মাত্র ১৩ বছরের একটি অবুঝ শিশু। সে বুঝতে পারেনি, বাইরে বের হওয়ার সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে যাবে।

তবে অপ্রতিম হত্যার কারণ সম্পর্কে তাবাসসুম ঐশী তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, আইফোন বা টাকার জন্য তাকে হত্যা করা হয়নি। তার অভিযোগ, আগে থেকে জমে থাকা ক্ষোভ ও শত্রুতার কারণে পরিকল্পনা করে অপ্রতিমকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শালবনে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

পোস্টে তাবাসসুম ঐশী অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। তিনি লেখেন, এ ঘটনায় যেন আর কোনো শিশুকে এমন পরিণতির শিকার হতে না হয়।

অন্য একটি পোস্টে তাবাসসুম ঐশী অপ্রতিমকে উদ্দেশ করে লেখেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সেখানে তিনি অপ্রতিমকে তার আপন বড় চাচার ছেলে উল্লেখ করে বলেন, এবারের ঈদেও তারা দুজন একসঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছেন, ঘুরেছেন এবং গল্প করেছেন। অপ্রতিম তার বিভিন্ন স্বপ্নের কথাও তাকে বলত বলে জানান তাবাসসুম।

তাবাসসুম জানান, তার সঙ্গে পুরো কুমিল্লা ঘুরতে চেয়েছিল অপ্রতিম। ছোট ভাই হলেও অনেক সময় বড় ভাইয়ের মতো তাকে শাসন করত। আইসক্রিম, চকলেট ও চিপস লুকিয়ে এনে দিত। এমনকি ছেলে বন্ধু না বানানোর জন্যও তাকে পরামর্শ দিত অপ্রতিম।

তাবাসসুম ঐশী লিখেছেন, এখন এই কথাগুলো কে বলবে আমায়? কোথায় তোকে পাবরে ভাই আমার?

পোস্টের শেষে অপ্রতিমের জন্য দোয়া করে তিনি লেখেন, আল্লাহ তোকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।

এর আগে, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সি অপ্রতিম। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে দক্ষিণ সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।