logo

২৫ কোটি টাকার সেতু যেন ‘নিখোঁজ’

২৫ কোটি টাকার সেতু যেন ‘নিখোঁজ’

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর তীরে ক্রসবার-৩ ও ৪-এর মধ্যবর্তী এলাকায় ৬৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কিন্তু প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ২৫ কোটি টাকার একটি সেতু আজও নির্মাণ করা হয়নি। এতে এলাকাবাসীর প্রশ্ন শুনেছিলাম সেতু হবে, সেই সেতু গেল কোথায়?

নির্ধারিত সময়ে সেতুনির্মাণ না হওয়ায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে ক্রসবার-৩ ও ৪-এর মধ্যবর্তী এলাকায় বসবাসরত কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সিরাজগঞ্জ পাউবো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনদুর্ভোগ লাঘবে তারা আরও একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য ঢাকায় অনুমোদনের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পটির আওতায় ছিল ৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৩ কিলোমিটার মাটির বাঁধ নির্মাণ, নদী থেকে ড্রেজিং করা ১ কোটি ৮২ লাখ ঘনমিটার বালু দিয়ে জমি ভরাট এবং ৮৪ মিটার দৈর্ঘ্যের ২৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি আর্চ সেতু নির্মাণ। এ ছাড়া সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাঁধ নির্মাণ ও বালু ভরাটের কাজ শেষ হলেও ২৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ের ৮৪ মিটার আর্চ সেতুটি নির্মাণ করা হয়নি। পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধনের বেশ কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে।

ক্রসবার-৩ এলাকায় বসবাসকারী হাবিবুর রহমান জানান, এখানে ইপিজেড হলে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। ক্রসবার-৩ ও ৪-এর মধ্যবর্তী এলাকায় প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার পরিবার বসবাস করে। তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেয়া একটি ফুটওভারব্রিজ দিয়ে করা খুবই কষ্টকর হবে। এ ছাড়া দুই ক্রসবার এবং যমুনা সেতুর সঙ্গে সংযোগকারী একটি সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি ৫০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি শুরু হয়। পরে কয়েক দফা ব্যয় বাড়িয়ে ৬৩৮ কোটি টাকা করা হয় এবং ২০২৩ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ দেখানো হয়। প্রকল্পটি সরকারের সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, সেতুর কাজ ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। কেন হয়নি—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তখন আমি এখানে ছিলাম না, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।

তিনি আরও জানান, ক্রসবার–৪ এলাকাটি শিল্প পার্ক কর্তৃপক্ষ বাউন্ডারি দিয়ে দখলে নিয়েছে, যার ফলে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। তবুও জনদুর্ভোগ কমানো এবং সৌন্দর্য বর্ধনের কথা বিবেচনা করে নতুন একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, যমুনা নদী থেকে পুনরুদ্ধার করা ভূমির উন্নয়ন এবং বাঁধ নির্মাণের কাজ পাউবো সম্পন্ন করেছে। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং কিছুদিন আগে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদও করা হয়েছে। তবে সৌন্দর্য বর্ধনের টাইলস বসানোর কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে।

এদিকে গত সোমবার (৩০ জুন) সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ছয় মাস আগে জেলা প্রশাসকের হলরুমে ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, জেলায় যেহেতু সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন রয়েছে, তাই এখানে ইপিজেড গড়ে তোলা হবে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি কার্যবিবরণীও প্রণয়ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঢাকার ইপিজেড কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা জানান, সিরাজগঞ্জে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল হলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে এবং এ বিষয়ে তারা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন।