logo

সারের ডিলারশিপ পেলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা রুবেল

সারের ডিলারশিপ পেলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা রুবেল
মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল। ছবি : ফেসবুক থেকে পাওয়া

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতারাও রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আগে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নে ‘আজাদী করপোরেশন’ নামে সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিব হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল।

এ ছাড়া ইকড়ি ইউনিয়নে হাওলাদার ট্রেডার্সের নামে সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হাওলাদার। গৌরীপুর ইউনিয়নে নাসির ট্রেডার্সের নামে নিয়োগ পেয়েছেন নাছির হাওলাদার। ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নে মেসার্স মাইশা এন্টারপ্রাইজের নামে সারের ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমীন ও ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরে মেসার্স আরমান এন্টারপ্রাইজের মোস্তফা কামাল এবং ধাওয়া ইউনিয়নে মেসার্স একতা স্টোরের মো. হাবিবুর রহমানও নিয়োগ পেয়েছেন।

উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়ার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগের জন্য মোট ৩৪টি আবেদন জমা পড়ে। উপজেলা বাছাই কমিটি প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনজন করে আবেদনকারীকে সুপারিশ করে জেলা কমিটির কাছে পাঠায়। তাদের মধ্য থেকেই ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে কমিটি-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সার ডিলারদের তালিকা থেকে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নাম জানা গেছে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বিধি লঙ্ঘনের তথ্য বা প্রমাণ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা বাছাই কমিটি প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে আবেদনকারীর নাম সুপারিশ করে জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছে। পরে জেলা কমিটি নিয়োগ দিয়েছে।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান বলেন, উপজেলা কমিটি কাগজপত্র যাচাই করে জেলা কমিটির কাছে আবেদনকারীদের নাম পাঠিয়েছে। জেলা কমিটি সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। কে দলীয় বা কে দলীয় নয়, তা আমাদের জানার বিষয় নয়। সরকারি বিধি মোতাবেক তিনজনের নাম সুপারিশ করে পাঠানো হয়েছিল।

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার এশিয়া পোস্টকে বলেন, আবেদনগুলো উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটিতে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে তালিকা জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়। জেলা মূল্যায়ন কমিটি আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সেখান থেকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনোভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।