Advertisement

নেত্রকোনায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নেত্রকোনা
নেত্রকোনায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ
এশিয়া পোস্ট গ্রাফিক্স

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মুন্না নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, রোববার (১৪ জুন) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মুন্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

অভিযুক্ত মুন্না উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের রানা হিজল গ্রামের শহিদ আলমের (ছোট্টন) ছেলে। মুন্না মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর এলাকায় একটি দোকানে কাজ করেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১২ জুন রাত ১০টার দিকে শিশুটি ঘরের বাইরে বের হলে মুন্না শিশুটির মুখ গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে টেনে-হিঁচড়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ধারালো ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি।

ধর্ষণের ফলে শুরু হওয়া রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় রোববার শিশুটি তার ফুপুকে বিষয়টি বলে। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুর বাবাকে বিষয়টি জানানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা জানার পর শিশুটির বাবা ও ফুপু অভিযুক্ত মুন্নার বাবার কাছে বিচার চাইতে যান। অভিযুক্তের বাবা ঘটনাটি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখান। পরে গতকাল রাতেই এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মুন্নার বিরুদ্ধে মোহনগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় রাতেই মামলা গ্রহণ করে পুলিশ।

মামলার পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান মুন্না। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ইতোমধ্যে মামলা রুজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আজ সকালে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এ বিষয়ে সকল আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, অভিযুক্ত মুন্না গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।