logo

কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণে এলাকায় আতঙ্ক

কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণে এলাকায় আতঙ্ক

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ সময় কয়েক দফায় শতাধকি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অনেকে নিজের ঘর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ সংঘর্ষ হয় বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার শামসু সরদার (ওরফে কোপা শামসু) ও হাবিব হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি ওই বিরোধ আরও তীব্র হয়। শুক্রবার সকালে বিরোধের জের ধরে শামসু সরদার গ্রুপের লোকজন প্রথমে মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মোবাইলের দোকান, একটি হোটেল এবং একটি মুদি দোকানে হামলা চালায়। এ সময় দোকানগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা হাবিব হাওলাদার গ্রুপের সমর্থক ঢালী বংশের কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় বসতঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি মালামাল লুটপাট করা হয়।

এ হামলার পরপরই হাবিব হাওলাদার গ্রুপের লোকজনও সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়রা জানান, ককটেল বিস্ফোরণ এবং হামলার কারণে বহু পরিবার আতঙ্কে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ আসার পর সংঘর্ষকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হবে। দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।