৫ ঘণ্টা পর মহাসড়ক ছাড়লেন শ্রমিকরা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ইন্টারস্টপ পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা এ বিক্ষোভ শুরু করেন। টানা ৫ ঘণ্টা অবরোধের পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে শ্রমিকেরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল শুরু হয়।
পুলিশ, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকেরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ইতিমধ্যেই শ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার দুপুরে টিফিনের বিরতির পর কাজে যোগ না দিয়ে ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা ও বস্তা ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে পাশের ডিভাইন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকেরা এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। ফলে চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত একাধিক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকার অন্তত ১৮ থেকে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে শ্রমিকেরা চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ছড়িয়ে পড়েন। কয়েকটি স্থানে দফায় দফায় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িসহ পুলিশের মোট ৪টি গাড়ি ভাঙচুর করেন। সংঘর্ষে পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকেরা রাত সাড়ে ৭টার দিকে মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়ার পর যানবাহন চলাচল আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
