‘আমার ছেলের কী অপরাধ ছিল, জবাব চাই’
-0834ee-720x405.webp)
‘কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি, এটাই কি আমার অপরাধ? আমার ছেলেকে কেন হত্যা করা হলো? আমি এর জবাব চাই। আমি এখন কীভাবে বাঁচব?’—১৩ বছরের ছেলে ইশায়েক শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর এভাবেই আহাজারি করছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনদের পাশাপাশি কুবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নাহিদা বেগম ও তার স্বামী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে সান্ত্বনা দিতে তাদের বাসায় ছুটে যান। এ সময় সন্তানের শোকে বাবা-মায়ের বুকফাটা কান্না ও আহাজারিতে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী অপ্রতিমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। এ সময় নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার একটি মাত্র ছেলে। তাকে কেন এভাবে হত্যা করা হলো?’
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমি এ এলাকার এমপি হিসেবে লজ্জিত ও দুঃখিত। একজন মাসুম বাচ্চাকে রক্ষা করতে পারলাম না। আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। ৯০ দিনের মধ্যে এ ঘটনার বিচার শেষ করতে হবে।’
পুলিশ জানায়, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে তুহিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তাঁর বাবার নাম নুরুল আলম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি থানার পরিদর্শক মহিবুল আলম ভূঁইয়া।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার আওতাধীন বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, আমাদের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। আমাদের কাছে একজন ব্যক্তি আছে, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আমি এখান থেকে যাওয়ার পর এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সঠিকভাবে খতিয়ে দেখব, তদন্ত করব। প্রকৃত হত্যাকারীকে না ধরা পর্যন্ত আমরা ননস্টপ এটা নিয়ে কাজ করব।


