জেলে নিহতের জেরে বন বিভাগের অফিসে হামলার ঘটনায় বিজিবি মোতায়েন

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘বনরক্ষীদের গুলিতে’ জেলে নিহতের ঘটনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থানা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় সেখানে বিজিবি শক্ত অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৮ মে) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা এলাকার বাসিন্দা কাঁকড়ার জেলে আমিনুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। স্থানীয়রা সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসে হামলা চালিয়ে পাঁচজন বনকর্মীকে আহত করেন এবং বিভিন্ন অসববপত্র ভাঙচুর করেন।
প্রায় ৪০ মিনিট ধরে হামলা, ভাঙচুরের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশের পাশাপাশি নীলডুমুর ১৭ ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যরা এসে যোগ দেন। পুলিশ ও বিজিবির যৌথ প্রচেষ্টায় বিক্ষুব্দরা পিছু হটে। ঘটনাস্থল থানা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় সেখানে বিজিবি শক্ত অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
জানা গেছে, বিজিবি পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ওই এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। তবে এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিত বিরাজ করছে। তাই পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বিজিবির এই টহল কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানা গেছে।
এদিকে আহত বনরক্ষী শেখ মো. ফারুক আহমেদ, মো. মেজবাউল ইসলাম, ফায়জুর রহমান, আজাদুল ইসলাম ও স্বেচ্ছাসেবক এখলাছুর রহমানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, হামলার বিষয় আঁচ করতে পেরে তারা পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে আগেই জানিয়েছিলেন। পরে বিজিবি, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন, গুলিতে এক বনজীবী নিহতের ঘটনায় উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত বনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়ে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।
তিন দিন আগে বন বিভাগের পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে দুটি নৌকায় চারজন বনজীবী সুন্দরবনে যান কাঁকড়া শিকারের জন্য। সোমবার সকাল থেকে খুলনা রেঞ্জের পাটকোসটার ঝিল এলাকায় (অভয়ারণ্য) নৌকায় বসে তারা কাঁকড়া শিকার করছিলেন। সকাল ৭টার দিকে পাশ্ববর্তী টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল টিমের সদস্যরা পেছন থেকে তাদের ডাক দেন। এ সময় জেলেরা তাদের কাছে না গেলে টহল টিমের সদস্যরা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে আমিনুরের মৃত্যু হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে মরদেহ নিয়ে এলাকায় ফিরে আসেন ওই জেলেরা।
আমিনুর রহমানের সঙ্গে থাকা জেলেদের দাবি, তারা সুন্দরবনের শতমুখি খালে কাঁকড়া ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বন বিভাগের খুলনা স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যরা তাদের ডাক দেন। জেলেরা কাছে না গেলে বন বিভাগের সদস্যরা গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে আমিনুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান সঙ্গীরা।
