মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একই পরিবারের ৩ জন নিহত

বগুড়ায় মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে উল্টে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ছোনকা বাজারের কলেজ রোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তালুক শাহাবাজ এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে মমিনুল ইসলাম, মেয়ে শিউলি বেগম এবং নাতনি তায়েবা। নিহত মমিনুল ও শিউলি ভাই–বোন, তায়েবা তাদের ভাতিজি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকাগামী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ডিভাইডারে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই মমিনুল ইসলাম নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিউলি বেগম ও তায়েবার মৃত্যু হয়।
আহতদের মধ্যে ফাতেমা জান্নাত ইলহাম (দেড় বছর), মরজিনা খাতুন, রুমি, হেলেনা, তৌসিফসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ঢাকা–রংপুর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সকাল পৌনে ৯টার দিকে রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ছোনকা গ্রামের বাসিন্দা সাহেদ আলী বলেন, বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে তিনি মাইক্রোবাসে আগুন জ্বলতে দেখেন। কয়েকজন যাত্রী জানালা ভেঙে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
তিনি জানান, মাইক্রোবাসে মোট নয়জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন নারী। একটি চার বছরের শিশু অক্ষত রয়েছে, আরেকটি শিশু ও এক যুবক আহত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ বখতিয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে আহত মরজিনা খাতুন জানান, দুর্ঘটনার পর তার ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা সাড়ে চার লাখ টাকা হারিয়ে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রোকন উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।