সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের চার মামলা, আটক ১৪

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের জেরে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের অন্তত ২০০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে সহিংসতা, সড়ক অবরোধ ও কারখানায় বিশৃঙ্খলার ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় দুই থানা এলাকায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিকেলে সাভারের হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এতে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বহু যানবাহন আটকা পড়ে।
এদিন বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে মিছিল নিয়ে মহাসড়কে নামেন। পরে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করে সড়ক ছেড়ে যান। এর পর ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হয়।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান নূর জানান, শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে যাওয়ার পর আটকে পড়া যানবাহন চলতে শুরু করেছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানার সামনের সড়কে টায়ার ও প্লাস্টিকজাতীয় বস্তুতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। একই সময়ে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের ইউনিক ও নিশ্চিন্তপুর এলাকাতেও অবরোধের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলের অন্তত ২০০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, সড়ক অবরোধ ও কারখানায় বিশৃঙ্খলার ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় পৃথক চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে আশুলিয়া থানায় কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ৮০০ থেকে ১ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ওই থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাভার মডেল থানায়ও পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এর একটির বাদী পুলিশ, অন্যটি করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাভারে এখন পর্যন্ত নয়জনকে আটক করা হয়েছে। দুই থানা মিলিয়ে মোট আটকের সংখ্যা ১৪।
