প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৪০ প্রাথমিক বিদ্যালয়

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১১৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান নেমে যাচ্ছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলাও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নাউজান, কাজিয়ারা, উত্তর কালিকাপুর, চরপয়ালী, পদুয়া, মাছুয়াখাল, বিশ্বাসপুর, পূর্ব বাড়ৈগাঁও, পশ্চিম আশ্বিনপুর, পশ্চিম আঁচলছিলাসহ আরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এসব বিদ্যালয়ের বেশির ভাগেই শিক্ষক সংখ্যা তিন থেকে চারজন। তাদের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় বাকি শিক্ষক সংখ্যা কমে যায়। ফলে অনেক সময় একাধিক শ্রেণির পাঠদান একই শিক্ষককে সামলাতে হয়। কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
নায়েরগাঁও ক্লাস্টারের নাউজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৬ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়টিতে ১৩০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত পাঠদান চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। একইভাবে ২০১১ সাল থেকে ঘোড়াধাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও প্রধান শিক্ষক নেই। সেখানে ২০৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষকসংখ্যা সীমিত।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, দাপ্তরিক কাজের জন্য মাসে ৮ থেকে ৯ দিন উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার মানে প্রভাব পড়ে।
অভিভাবকেরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকসংকটের কারণে এক শিক্ষককে একাধিক শ্রেণি নিতে হচ্ছে, ফলে কার্যকর পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।
ভানুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুন মিয়া বলেন, শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ২০০৯ সাল থেকে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ না হলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুন নাহার জানান, শূন্য পদগুলোর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক সংকটের মধ্যেও শিক্ষকরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।