logo

অবৈধ অটোরিকশায় নাকাল জামালপুর, বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি

অবৈধ অটোরিকশায় নাকাল জামালপুর, বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি

জামালপুর শহরের সড়কে দিন দিন বেড়ে চলেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট। নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা এবং অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা।

সরজমিনে দেখা যায়, শহরের তমালতলা মোড়, গেট পাড় ক্রসিং, পাঁচ রাস্তা, জিলা স্কুল, জেনারেল হাসপাতাল, মেডিকেল রোডসহ, শহীদ হারুণ সড়কসহ এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট চোখে পড়ার মতো দেখা গেছে। হঠাৎ ব্রেক, যত্রতত্র মোড় ঘোরানো এবং বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে সড়কে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। বিশেষ করে সকাল থেকে বিকেলের ব্যস্ত সময়ে এসব এলাকায় যানজট চরম আকার ধারণ করছে।

জামালপুর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, জেলা শহরে চলাচলের জন্য লাইসেন্সধারী রিকশার সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি। তবে এর বাইরে আরও প্রায় ১৩ হাজারের বেশি রিকশা ও অটোরিকশা রয়েছে, যেগুলোর অনেকই লাইসেন্সের আওতার বাইরে।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা। জেলা স্কুল মোড় ও জেনারেল হাসপাতাল সড়কে রাস্তা পার হওয়া যেন একপ্রকার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিশু, নারী ও বয়স্কদের অনেক সময় অপেক্ষা করেও নিরাপদে সড়ক পার হওয়ার সুযোগ মিলছে না।

পথচারী নাজমুল হাসান বলেন, এই রাস্তা পার হইতেই ভয় লাগে। অটোরিকশাগুলা কোনো নিয়ম মানে না। চলাচল করা এখন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ।

কলেজ ছাত্রী আরিফা আক্তার বলেন, কলেজে সময়মতো পৌঁছাতে পারি না। রাস্তা পার হতেই অনেক সময় লাগে। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যানজটের কারণে রাস্তায় এপার থেকে ওপারে যেতে খুবই কষ্ট হয়।

যানজটের প্রভাব পড়ছে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। রেলস্টেশন ও গেটপাড় বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, যানজটের কারণে অনেক ক্রেতাই বাজারে আসতে চান না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কুয়াশা বলেন যানজটের কারণে কাস্টমার কমে গেছে। সারাদিন দোকান খোলা থাকলেও বিক্রি আগের মতো হচ্ছে না। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান দরকার।

তবে অটোরিকশা চালকদের দাবি, জীবিকার তাগিদেই তারা রিকশা চালান। দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হলেও সেখান থেকে মালিককে জমা দিতে হয়। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছেন।

তিন বছর থেকে জেলা শহরে রিকশা চালান হাকিম মিয়া এ সময় তিনি বলেন আগে লাল সবুজ রং দিয়ে দিয়েছিল পৌরসভা থেকে। তখন দুই ভাগ করা ছিল। এক দিন লাল রঙের রিকশা চললে আরেক দিন সবুজ রঙের রিকশা চলবে। এখন আর তেমন নাই। যে যেভাবে পারতেছে রিকশা চালাচ্ছে। অবৈধ রিকশার জন্য আমাদেরও সমস্যা হয় অনেক।

জামালপুর নাগরিক কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, অটোরিকশা চালকদের একটি বড় অংশের নেই বৈধ লাইসেন্স কিংবা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। ট্রাফিক সিগন্যাল, একমুখী সড়ক কিংবা পথচারীর অধিকার সবই যেন উপেক্ষিত। অন্যদিকে রিকশা ও অন্যান্য যানচালকরাও বলছেন, সংকীর্ণ সড়কে অতিরিক্ত অটোরিকশার কারণে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দ্রুত এই সেক্টরটি শৃঙ্খলায় আনা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে শহরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে লোক নিয়োজিত করা হয়েছে, যাতে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করতে না পারে। অবৈধ রিকশা পাওয়া গেলে জরিমানা করা হচ্ছে এবং সেগুলোকে লাইসেন্সের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

জামালপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন জানান, শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ৬৫ জন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য।