logo

সাতক্ষীরায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা-সংঘর্ষ

সাতক্ষীরায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা-সংঘর্ষ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও কালিগঞ্জ থানার আশপাশের এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগের ‘নৈরাজ্য, অপরাজনীতি ও অগ্নিসন্ত্রাসের’ প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অন্যদিকে উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে বিকেল পাঁচটায় পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা চলছিল।

একপর্যায়ে বিকেলে রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে কৃষকদলের নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে কালিগঞ্জ থানার দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে মিছিলটি সামনে এগিয়ে গেলে অপর একটি পক্ষের মিছিলের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ হাসানুর রহমান ও শেখ নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়। অন্যদিকে রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে কৃষকদলের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসেন। দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সংঘর্ষে রোকনুজ্জামান রোকন সমর্থিত সবুজ ও ছোটন নামে দুজনকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অপর পক্ষের আল ইমরান হোসেন প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ছাড়া বিপুল হোসেন ও আজমির হোসেনসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত সবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ হাসানুর রহমান বলেন, জেলা বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় রোকনুজ্জামান রোকন সমর্থিত লোকজন তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তার দাবি, তারা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করেছেন এবং সংঘর্ষ বাড়তে দেননি।

অন্যদিকে উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকন অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন। একপর্যায়ে শেখ হাসানুর রহমানের সমর্থিত লোকজন তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান শেখ এবাদুল ইসলাম বলেন, দুদিন আগে উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান উপজেলা বিএনপির মূল ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করার প্রস্তুতি নেন। তখন তাকে কৃষকদলের আহ্বায়ক হিসেবে পৃথক কর্মসূচি পালন না করে মূল দলের ব্যানারে সম্মিলিতভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সকালে এ নিয়ে আলোচনা চলাকালে রোকনুজ্জামান সমর্থিত লোকজন ইউনিয়ন বিএনপি ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনিকে মারধর করেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং বিকেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, দলের মূল সংগঠনের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। পাশাপাশি উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে আরেকটি কর্মসূচি চলছিল। একপর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচ-ছয়জন আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

কালিগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ঘোষ বলেন, কর্মসূচিকে ঘিরে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ এড়াতে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ ও থানার আশপাশে কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের মামলা বা লিখিত অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।