কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি সহকর্মীদের

কুষ্টিয়ায় বাংলা টিভির কুমারখালী প্রতিনিধি সাংবাদিক মাহবুব উল আহসান উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনার বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন সহকর্মীরা। তারা বলছেন, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে সাংবাদিক সমাজ প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজে আয়োজিত মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবশে এসব কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা।
মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, সাংবাদিকরা কারও প্রতিপক্ষ নন। তারা জনগণের পক্ষে কথা বলেন। অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সংগ্রহের কারণে কোনো সাংবাদিককে হামলার শিকার হতে হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কারও প্রতিপক্ষ নন। তারা জনগণের কথা তুলে ধরেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। মামলায় যাদের নাম রয়েছে, তদন্ত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
এর আগে, শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বাংলা টিভির কুমারখালী প্রতিনিধি ও কুমারখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আহসান উল্লাস। শনিবার সন্ধ্যায় কুমারখালী থানায় মামলা করেন তিনি। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের বডিগার্ড রুহুল আমিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এমপি আফজাল হোসেনের ভাই আনোয়ার হোসেন ও ছেলে শোভন হোসেন। এ ছাড়া মারুফ হোসেন, মো. লিটন হোসেন, মো. আল আমিন, সোহান, আল আমিন, সাব্বির, মো. আমিরুল ইসলাম ও সাদিকের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিক উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনার বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রোববার তার সহকর্মীরা মানববন্ধন আয়োজন করেন। মানববন্ধন পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজের দপ্তর সম্পাদক ও এশিয়া পোস্টের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এস এম মাহফুজ উর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজের সাধারণ সম্পাদক শামিম উল হাসান অপু, সহসভাপতি মজিবুল শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ জিহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুন্নবী বাবু, সদস্য তুহিন খন্দকার, নাব্বির আন নাফিজসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা।
বক্তারা বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিক উল্লাস হামলার শিকার হয়েছেন। মামলা হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। হামলার ঘটনায় শুধু মামলা গ্রহণ করলে দায়িত্ব শেষ হয় না। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তদন্ত এগিয়ে নিতে হবে। হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে–তাদেরও তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করতে হবে।
তারা বলেন, প্রতিহত নয়, এবার প্রতিরোধ করা হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা মামলা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা হলে সাংবাদিক সমাজ তার পাশে দাঁড়াবে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিভিন্ন হাট-ঘাট ও বালু ব্যবসা ঘিরে প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রয়েছে এবং এসব বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী সংবাদ করতে গেলে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়েন। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।
এ সময় কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যাবে না। দৃশ্যমান ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে কলম থামানো যাবে না।
