logo

মহাস্থান মাজারের দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা

মহাস্থান মাজারের দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ার মহাস্থানগড়ের ঐতিহ্যবাহী মাজারের ১৫টি দানবাক্স খুলে প্রায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। দীর্ঘ তিন মাস পর দানবাক্সগুলো খোলা হলে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও পাওয়া যায়। এসব সামগ্রী তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি ও মাজার কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলার কাজ শুরু হয়। পরে ২৫ জন স্কুলশিক্ষার্থীর সহায়তায় অর্থ গণনা শুরু করা হয়। প্রথম দিনের গণনা শেষ না হওয়ায় বুধবার সকালে আবার গণনা শুরু করা হয়। বিকেলে গণনা শেষে মোট অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

মহাস্থানগড় মাজার কমিটির সদস্যরা বলেন, এবার দানবাক্সের সংখ্যা বেশি থাকায় আগেরবারের তুলনায় প্রাপ্ত অর্থও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি পাওয়া স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণ ও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গণনা শেষে নগদ অর্থ মাজারের হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য অগ্রণী ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

দানবাক্স গণনার কাজে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার কাজে অংশ নেওয়া তাদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। ভবিষ্যতে এমন কাজে দায়িত্বশীলভাবে অংশ নিতে এ অভিজ্ঞতা কাজে দেবে বলে তারা মনে করেন।

মাজার কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দানবাক্স খোলার পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কাজ করা হয়েছে। তবে দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

মহাস্থানগড়ে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। তাদের দেওয়া অনুদানে নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়। দানবাক্স খোলার সময় তাই স্থানীয় মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালাল বলেন, দুই দিন ধরে ১৫টি দানবাক্স খুলে টাকা গণনা করা হয়েছে। এ কাজে ২৫ জন শিক্ষার্থী সহযোগিতা করেছে। এবার মোট প্রায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। গণনা শেষে টাকাগুলো মাজারের হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে প্রায় তিন মাস আগে খোলা পাঁচটি দানবাক্স থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবার দানবাক্সের সংখ্যা বাড়ায় প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।