logo
Advertisement

পটুয়াখালী/অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের পর ৩৫ যাত্রী নিয়ে খাদে বাস, নিহত ৩

অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের পর ৩৫ যাত্রী নিয়ে খাদে বাস, নিহত ৩
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ধলু গাজীর মোড় এলাকায় অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের পর মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যাত্রীবাহী বাসটি। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পটুয়াখালীতে অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী একটি বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা অটোরিকশার যাত্রী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ইমরান ট্রাভেলসের একটি বাস। বাসটি ধলু গাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাসহ বাসটি সড়কের পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। রাতেই পানির ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধার হওয়া তিনজনই অটোরিকশাটির যাত্রী ছিলেন।

এদিকে, বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় বাসের যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সুপারভাইজার ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।

বাসের যাত্রী এমদাদুল এশিয়া পোস্টকে বলেন, বাসটি শুরু থেকেই খুব দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে চলছিল। এরপর কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, কিছুই বুঝতে পারিনি। আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন।

আরেক যাত্রী নজরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা ঢাকায় তাবলিগ জামাতে যাচ্ছিলাম। পরিবারের সদস্যরাও সঙ্গে ছিলেন। হঠাৎ বাসটি খাদে পড়ে যায়। আমরা ভেতরে বসে মনে করছিলাম, এটাই হয়তো জীবনের শেষ মুহূর্ত। নাতিকে কোলে নিয়ে আমি অনেক দূরে ছিটকে পড়ি। তার মা ভেবেছিল, নাতি হয়তো আর নেই। পরে চিৎকার করে জানাই, আমি ও নাতি দুজনই বেঁচে আছি।

স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল এশিয়া পোস্টকে বলেন, হঠাৎ শব্দে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। গিয়ে দেখি, বাসটি পানিতে পড়ে আছে এবং এর নিচে একটি অটোরিকশা চাপা পড়েছে। পরে স্থানীয়রা মিলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আসমা বেগম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনাস্থলে এসে পানিতে মানুষের চুল ভাসতে দেখি। পরে কয়েকজন পানিতে নেমে মরদেহ উদ্ধার করেন। একটি মরদেহের বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশও দেখা গেছে।

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। বাসের ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না এবং পানির নিচে আরও কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনায় আরও কেউ নিহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। উদ্ধারকাজ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছিলেন।