ঋণের চাপে প্রবাসীর আত্মহত্যা, মরদেহ আনতে সহায়তার আবেদন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বাগেরহাট
ঋণের চাপে প্রবাসীর আত্মহত্যা, মরদেহ আনতে সহায়তার আবেদন
প্রবাসীর আত্মহত্যায় স্বজনদের আহাজারি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সংসারের অভাব ঘোচানো আর তিন কন্যার মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন বাগেরহাটের জিন্নাত খান খোকন। কিন্তু সেই স্বপ্নের যাত্রা শেষ হলো মর্মান্তিক পরিণতিতে। ঋণের তীব্র চাপ ও অনিশ্চয়তায় ইতালিতে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

Advertisement

উপার্জনক্ষম একমাত্র মানুষকে হারিয়ে এখন দিশেহারা পুরো পরিবার। তবে অর্থাভাবে খোকনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মরদেহ আনতে প্রয়োজন প্রায় ৭ লাখ টাকা, যা জোগাড় করা এই নিঃস্ব পরিবারের পক্ষে অসম্ভব। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন নিহতের বৃদ্ধ মা ও স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট সদর উপজেলার ফতেপুরের শিমুলতলা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে জিন্নাত খান খোকন। উন্নত জীবনের আশায় বাড়ির ভিটাসহ শেষ সম্বল বিক্রি এবং ধারদেনা করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দালালের মাধ্যমে প্রথমে বুলগেরিয়া যান। পরে সেখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পানিপথে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করেন। তবে ইতালিতে গিয়েও ভাগ্যের চাকা না ঘোরায় এবং ঋণের বোঝা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে সেখানে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে পরিবারের কাছে খবর আসে। খোকন তার স্ত্রী সুমি বেগম, বড় মেয়ে জেরিন আক্তার (১৪), মেজো মেয়ে জিনিয়া খানম (৮), আড়াই বছরের ছোট মেয়ে জাকিয়া আক্তার এবং ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মা জরিনা বেগমকে রেখে গেছেন।

খোকনের মামাতো ভাই শেখ তানভির হাসান বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য খোকন বাড়ির ভিটাটুকুও বিক্রি করেছিল। অনেক ঋণের বোঝা ছিল তার ওপর। পরিবারের ভালো ভবিষ্যতের জন্য সে বিদেশে গিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই মানসিক চাপই তার জীবন কেড়ে নিল।

মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম। বৃদ্ধ মা জরিনা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, আমার ছেলে সংসারের সুখের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন শেষবারের মতো তার মুখটা দেখতে পারব কি না জানি না। সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন, আমার ছেলের মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, স্বামীকে বিদেশ পাঠাতে অনেক কষ্ট করেছি, ঋণ করেছি। এখন তার লাশ দেশে আনার টাকাও আমাদের কাছে নেই। ছোট ছোট তিনটি মেয়েকে নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব, বুঝতে পারছি না।

বাবার মরদেহ দেশে আনার আকুতি জানিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বড় মেয়ে জেরিন আক্তার বলে, আমি শুধু চাই, বাবাকে একবার শেষবারের মতো দেখতে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম ও মো. মিজান জানান, পরিবারটি এখন একেবারেই অসহায় এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে। এলাকাবাসী সাধ্যমতো চেষ্টা করলেও মরদেহ আনার বিপুল অর্থ জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সমাজের বিত্তবান মানুষদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিষয় :বাগেরহাট