logo

মানিক পশারীর কবর খোঁড়া নিয়ে নতুন তথ্য

মানিক পশারীর কবর খোঁড়া নিয়ে নতুন তথ্য
মানিক পশারীর কবর খুঁড়ছেন পরিবারের নারী সদস্যরা। ইনসেটে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। ছবি: ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিড়িও থেকে নেওয়া

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ঘিরে পিরোজপুরে তিন নারী মিলে কবর খুঁড়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে এবার মানিক পশারীর কবর খোঁড়া নিয়ে জানা গেছে নতুন তথ্য।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও মানিক পশারীর বড় বোনের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য, কবর খোঁড়ার সময় দুই পুরুষও উপস্থিত ছিলেন। পরে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কবর খোঁড়ার কাজ সম্পন্ন হয়।

মানিক পশারীর বড় বোন হাসিনা পশারী বলেন, আমার ভাইয়ের কবর খোঁড়ার সময় তিনজন মহিলার সঙ্গে পাশের বাড়ির দুইজন পুরুষও ছিলেন। পরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ আসেন। এরপর দাফন করা হয়। সেসময় কেউ কোনো বাধা দেননি।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মতিউর রহমান জানান, মানিক পশারীকে দাফনের জন্য প্রথমে গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে তার বাড়ির কাছে কবর খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু মাগরিবের পর একদল লোক কবরটি ভরাট করে দেয়। পরে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পুনরায় কবর খোঁড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মতিউর রহমান জানান, কবর খোঁড়ার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনতে তিনি মানিক পশারীর এক বোনের বাড়িতে যান। সেখানে তার বোনকে কবর খোঁড়ার সরঞ্জাম আনতে বলেন। এসময় তার বোনসহ আরও দুই নারী সেখানে যান। পরে তিনি (মতিউর রহমান) কবর খোঁড়ার জন্য লোক খুঁজতে গেলে ওই নারীরা কবরের মাটি সরাচ্ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি ওই সময়ের।

তিনি আরও বলেন, কবরটি তিনি ও স্থানীয় এক ব্যক্তি মিলে খুঁড়েছেন। এসময় নারীরাও সহযোগিতা করেন। ফলে তিন নারী একাই কবর খুঁড়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবি সঠিক নয়।

গ্রাম পুলিশ মতিউর রহমানের ভাষ্য, দাফনের সময় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনজন গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় দুই ব্যক্তির সহায়তায় দাফন সম্পন্ন হয়। ওই সময় আশপাশে কোনো নারীকে দেখেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা তার দাফন করেছি।