অপহরণের একদিন পর উদ্ধার রাবারশ্রমিক বিদ্যা চন্দ্র

বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ডিসি রোড এলাকা থেকে সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত রাবারশ্রমিক বিদ্যা চন্দ্র ত্রিপুরা একদিন পর উদ্ধার হয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে নিজের মোবাইল ফোন থেকে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি নিরাপদে ফিরে আসায় পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে গজালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডিসি রোড এলাকা থেকে বিদ্যা চন্দ্র ত্রিপুরাকে অপহরণ করে সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। ঘটনার পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে লামা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ উদ্ধারে অভিযান শুরু করে এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অনুসন্ধান চালায়।
অপহরণের প্রায় একদিন পর সোমবার রাতে বিদ্যা চন্দ্র ত্রিপুরা নিজেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ভাই গঙ্গা চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, ৩ আগস্ট রাতে আমার মোবাইলে কল দিয়ে বিদ্যা চন্দ্র কোন স্থানে আছেন তা জানান। বিদ্যা চন্দ্র বলেন, ‘আমাকে বাড়ি নিয়ে যাও। আমি বাড়ি যেতে চাই।’ এরপর আমরা দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি।
বিদ্যা চন্দ্র ত্রিপুরাকে জীবিত ফিরে পাওয়ায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
তবে অপহরণের পর কীভাবে মুক্তি পেলেন সে বিষয়ে কিছুই জানাননি বিদ্যা চন্দ্র।
খবর পেয়ে লামা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যা চন্দ্র ত্রিপুরার সঙ্গে কথা বলে এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে নিজ বাড়িতেই রয়েছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
এ বিষয়ে গজালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কাজল হালদার বলেন, অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তাকে উদ্ধারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাই। পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফিরে আসেন। তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, বিদ্যা চন্দ্র ত্রিপুরাকে কোথায় রাখা হয়েছিল, কীভাবে তিনি মুক্ত হলেন এবং অপহরণের পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। অপহরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
.png)


